গাজীপুরের শ্রীপুরে পৌরসভার সড়কের নষ্ট বাতি ঠিক (মেরামত) করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নাঈম আহাম্মেদ (২৮) নামে এক বিদ্যুৎ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ২ নম্বর ওর্য়াডের উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের সামনে সড়কের খুঁটিতে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাঈম আহাম্মেদ উজিলাব গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে। নাঈম পৌরসভায় বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের আউটসোর্সিং কর্মী হিসাবে কাজ করতো। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পৌরসভার প্রশাসক উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা, শ্রীপুর থানার ওসি ও পৌরসভার বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা উপজেলা হাসপাতালে ছুটে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- দুপুরের দিকে পৌরসভার একটি গাড়ি দিয়ে মই এনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সড়কের পূর্বপাশের একটি খুঁটিতে কাজ করছিল বিদ্যুৎ কর্মী নাঈম। এ সময় সে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই কাজ করতে যান। প্রয়োজনীয় কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জামও ছিলনা তাদের সঙ্গে। কাজের শেষ দিকে আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আক্রান্ত হয়ে নাঈম খুঁটি থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে দ্রুত আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিদ্যুতের কাজে কর্মীদের বিন্দুমাত্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকেনা। চরম ঝুঁকি নিয়ে কর্মীরা সারা বছর কাজ করেন। আজও নিরাপত্তার অভাবে একটি প্রাণ শেষ হয়ে গেল। এটা পৌরসভার নিতান্তই গাফিলতি।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা রিশাদ জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সড়কে বাতি মেরামতের সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন।
সহকর্মীরা জানান- সকাল থেকেই বিভিন্ন সড়কের সড়ক বাতি মেরামত কাজ চলছিল। এটাই শেষ কাজ ছিল। দুই দিন ধরেই বিভিন্ন সড়কের বাতির মেরামত চলছিল। গত দুদিনে দেড়শতাধিক বাতি ঠিক করা হয়েছে। আজ এই কাজ শেষ হলে এরপর সবাই দুপুরের খাবারের জন্য বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এই শেষ কাজই নাঈমের জীবন চিরতরে শেষ করে দিল। তারা বলেন নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকলেও অনেক সময় নানা কারণে ব্যবহার করা হয়না। এটা গাফিলতি, বিপদ ডেকে আনে। আজ তারই প্রমাণ নাঈমের জীবন হারানো।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন এটা খুবই মর্মাহত সংবাদ। আমরা খুবই ব্যথিত। আমাদের একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মীকে হারালাম। তিনি বলেন নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকার পরও না ব্যবহার করায় অকালে প্রাণ গেল তার। নাঈম হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করত। তবে দারুণ দক্ষ ও কর্মঠ ছিল সে। আমরা দাফন কাফনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করবো। আর তার পরিবারের কেউ কর্মক্ষম থাকলে পৌরসভায় একটি চাকরি ব্যবস্থা করবো। তবে তার পরিবার যা ভালো বুঝবে আমরা তাদের সাপোর্ট করবো। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা তার শোকগাথা পরিবারের জন্য সমবেদনা রাখছি।
ক্ষুব্ধ দিলারা জামান
কে বলল ভারত ফেভারিট: সূর্য, টি-টোয়েন্টিতে ফেভারিট বলে কিছু নেই: সালমান
বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ