গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের সময় র্যাবের গাড়ি ভাংচুর ও র্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধের ঘটনায় উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে অভিযান চালিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১) সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তিকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম এমদাদ প্রধান (৪৫)। তিনি বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের হাসমত আলী প্রধানের ছেলে। এমদাদ শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের আহব্বায়ক কমিটির সদস্য।
এদিকে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বরমী ইউনিয়নের বরামা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব সদস্যরা। পরে মোশারফের পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয় কিছু লোক র্যাবের গাড়ি অবরোধ করে ফেলে। কিছুক্ষনের মধ্যে সেখানে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকশ মানুষ র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রেখে ভাংচুর চালিয়ে অস্ত্রসহ আটক মোশারফকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এমদাদ প্রধান।
প্রত্যক্ষর্দীরা জানায়, ওই দিন বিকালে র্যাব-১ এর সদস্যরা একটি কালো মাইক্রো নিয়ে বরামা চৌরাস্তা মোড়ে এসে দাঁড়ায়। তবে তারা সাদা পোশাকে ছিলেন। এরপর আরও দুটি জিপ গাড়ি আসে র্যাবের। তারা পোশাক পরিহিত ছিলেন। পরে বরামা মোড়ের উত্তর দিকে রাস্তার পশ্চিম পাশে মোশারফের গ্যারেজে যায় র্যাব সদস্যরা। এ সময় সে ঘর তল্লাসি করে অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় গ্যারেজ মালিক মোশারফকে আটক করে র্যাব সদস্যরা।
অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে আটক মোশারফ হোসেন পাশের ঢুলিপাড়া গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি বরামা মোড়ে একটি অটোরিকশা বানানোর গ্যারেজ চালান। সেখান থেকেই তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
এরপর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মোশারফের আত্মীয়স্বজন একতিত্র হয়ে র্যাবের গাড়ি অবরোধ করে ফেলে। পরে তারা র্যাবের কাছ থেকে আটক মোশারফকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সারোয়ার হোসেন শেখ জানান, এমদাদ প্রধান উপজেলা যুবদলের আহব্বায়ক কমিটির সদস্য। ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নিবে না। তিনি অপরাধ করে থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার পাবেন।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, র্যাবের বাদী হয়ে করা ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার এমদাদকে গ্রেপ্তার করার পর র্যাব সদস্যরা তাকে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
