নেপালের পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি শীর্ষ আট রাজনৈতিক দলের

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩১ এএম

নেপালের শীর্ষস্থানীয় আট রাজনৈতিক দল পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল কর্তৃক পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ঘোষণাকে তারা অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেছে, এ ধরনের ঘোষণা দেয়ার এখতিয়ার তার নেই।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলগুলো এই দাবি জানায়। বিবৃতিতে নেপাল কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল, মাওয়িস্ট সেন্টারসহ মোট আটটি দলের প্রধান হুইপ স্বাক্ষর করেন।

পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ঘোষণাই বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল রাজনৈতিক দলগুলোর এই দাবি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, নেপালের জেন-জি বিদ্রোহের পর নতুন সূচনা হলেও নিহতদের পরিবারে রয়ে গেছে আপনজন হারানোর শোকের ক্ষত। দুই দিনের বিক্ষোভে অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। সরকার পতনের নেতৃত্ব দেয়া তরুণ প্রজন্মের বেশ কয়েকজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতদের পাশাপাশি নেপালজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী। স্থানীয় সময় শনিবার আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। এ সময় তিনি পুলিশের গুলিতে আহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি রবিবার নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে, তার নেতৃত্বে একটি ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নেপালের অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে শপথ নেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। দুর্নীতি-বিরোধী সহিংস আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলির পদত্যাগের পর অস্থির দেশটির দায়িত্ব নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখারেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে সংসদ ভেঙে দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৫ মার্চ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে চলা বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি আহত হন। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনকে ‘জেন জি আন্দোলন’ বলা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত