পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ‘স্মার্ট সহায়’ অ্যাপ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪ এএম

পরীক্ষার আগে অনেক শিক্ষার্থীই সময়ের অভাবে কিংবা টিউটর ও কোচিং সুবিধার অভাবে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে না। অনেকে আবার কিছু টপিক বুঝতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। ঠিক এই সমস্যার সমাধানেই এসেছে দেশের প্রথম এআই-ভিত্তিক শিক্ষা সহায়ক অ্যাপ ‘স্মার্ট সহায়’। অল্প সময়েই এটি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অ্যাপটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা দ্রুত পড়াশোনা শেষ করতে পারছে, নম্বর বেড়েছে ৫-১০ পর্যন্ত আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আত্মবিশ্বাসে।

কেন দরকার স্মার্ট সহায়?

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা সাধারণত গতানুগতিক এক ধরনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভরশীল। একই প্রশ্নব্যাংক, একই টেস্টপেপার, একই নোট, ফলে যার দুর্বলতা আলাদা, তার জন্য আলাদা সমাধান মেলে না। ‘স্মার্ট সহায়’ এই সীমাবদ্ধতাকে কাটাতে এসেছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দুর্বল দিক শনাক্ত করে এবং তার ভিত্তিতে সাজানো প্রস্তুতি পরিকল্পনা দেয়। ফলে কম সময় ও কম পরিশ্রমে বেশি কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

স্মার্ট সহায়ের বিশেষ ফিচার

অ্যাপটির ফিচারগুলো শিক্ষার্থীর শেখাকে সহজ ও কার্যকর করতে ডিজাইন করা হয়েছে। স্মার্ট টপিক অ্যানালাইসিস ও এআই সাজেশন, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ টপিক সাজেস্ট করে। শিক্ষার্থীর বেশি ভুল হওয়া জায়গাগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে। ফ্ল্যাশকার্ড ফিচার, যেসব প্রশ্নে বারবার ভুল হয়, সেগুলো আলাদা করে রাখা হয়। দ্রুত রিভিশনের জন্য ফ্ল্যাশকার্ড কাজে লাগে। পার্সোনালাইজড এক্সাম, শিক্ষার্থী নিজের দুর্বল টপিক নিয়ে আলাদাভাবে মডেল টেস্ট দিতে পারে। প্রশ্নব্যাংকে এসএসসি, এইচএসসি, ভর্তি ও চাকরি পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্ন পাওয়া যায়। স্মার্ট ডাউট সল্ভ, যেকোনো প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ উত্তর পাওয়া যায়। টাইপ করে, বাংলিশে, হাতে লেখা ছবি তুলে বা বইয়ের ছবি দিয়েও প্রশ্ন করা যায়।

পরীক্ষামূলক ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা

অ্যাপটি উন্মুক্ত হওয়ার আগে শতাধিক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর ওপর ট্রায়াল চালানো হয়। তারা গড়ে ১০-১৫ শতাংশ দ্রুত প্রস্তুতি শেষ করতে পেরেছে। গড়ে ৫-১০ নম্বর বেশি পেয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, অ্যাপের সাজেস্ট করা টপিক থেকে ৬০-৮০ শতাংশ প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। অ্যাপটির উদ্যোক্তা মো. আব্দুল্লাহ আল নাসিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীর দুর্বল দিক চিহ্নিত করে আমরা তার জন্য ব্যক্তিগত সমাধান তৈরি করি। এর ফলে প্রস্তুতি হয় লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর।’

সাবস্ক্রিপশন ও প্যাকেজ সিস্টেম

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে অ্যাপে রাখা হয়েছে নানা ধরনের প্যাকেজ। বিভাগভিত্তিক : বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক, ইংলিশ ভার্সন। পরীক্ষাভিত্তিক : এসএসসি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, চাকরিপ্রস্তুতি। সময়ভিত্তিক : এক মাস, তিন মাস, ছয় মাস ও এক বছরের সাবস্ক্রিপশন। ফিচার অ্যাকসেস : সর্বোচ্চ ৬টি স্মার্ট ফিচার একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে ‘স্মার্ট সহায়’ এমসিকিউ ও সৃজনশীল প্রশ্নে ফোকাস করছে। ভবিষ্যতে HSC ও চাকরি পরীক্ষার লিখিত প্রশ্ন নিয়েও কাজ করবে। এ ছাড়া iOS (Apple App Store)-GI  শিগগির প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাপটি ডেভেলপ করেছে ‘আমার ই-স্কুল’ এবং ‘পাইওনিয়ার আলফা’-এর প্রযুক্তি দল। তাদের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীর শেখাকে আরও ব্যক্তিগতকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত