বাংলাদেশে এসে বউ খুঁজবেন না, নাগরিকদের সতর্ক করল চীন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

বাংলাদেশে দালাল বা অবৈধ ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্ত্রী খুঁজতে না আসার জন্য চীনা নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত চীনের দূতাবাস। আন্তঃসীমান্ত বিয়ের নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানায়, কোনো চীনা নাগরিক যদি দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে স্ত্রী খুঁজতে বাংলাদেশে আসেন, তাহলে মানবপাচারের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মানবপাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারেন।

এ ছাড়া মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধ, যেমন অপরাধে উসকানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তঃসীমান্ত বিয়ের নামে প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দূতাবাস আরও বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি এবং সত্যিকারের ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘বউ কেনার চেষ্টা অনেক সময় আর্থিক চাঁদাবাজি ও শারীরিক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

চীনে আন্তর্জাতিক ঘটকালি বা বাণিজ্যিক ম্যাচমেকিং কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তবে দেশটিতে নারী-পুরুষের সংখ্যার বড় ব্যবধানের কারণে এই অবৈধ বাজার দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।

২০২০ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চীনে বিয়ে উপযোগী বয়সী নারীদের তুলনায় প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ বেশি পুরুষ রয়েছে। এই লিঙ্গ বৈষম্য অবৈধ কনে বাণিজ্য বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে একদিকে বিদেশি নাগরিকদের বৈবাহিক মানবপাচার থেকে রক্ষা করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতারণার মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের বিপুল অর্থ হারানো ঠেকাতে কাজ করছে বেইজিং।

গত কয়েক বছরে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে অবস্থিত চীনের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোও বিয়ের নামে প্রতারণা সম্পর্কে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে।

নিজ দেশেও মানবপাচার ও প্রতারণামূলক ঘটকালি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে চীন। দেশটির সুপ্রিম পিপলস প্রোকিউরেটরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানবপাচার এবং প্রতারণামূলক ঘটকালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনেক ঘটনায় দেখা গেছে, স্ত্রী খুঁজে পেতে কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করার পর বিদেশি নববধূরা কোনো খোঁজ না রেখে উধাও হয়ে গেছেন। আবার কিছু ঘটনায় নারীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক চীনা পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের মার্চে মাদাগাস্কারে আটজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

সম্প্রতি হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশের পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এর আগে মিয়ানমারের তিন নারী স্বীকার করেন, তারা মূলত বিয়ের নামে প্রতারণা চালানোর উদ্দেশ্যে চীনে গিয়েছিলেন। ওই অভিযানে ৬৩টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়, ৩৩টি প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয় এবং ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, এই মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারজুড়ে বিস্তৃত ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত