চীনের শেনজেনে শহরে এক জাপানি স্কুলের সামনে গত বছর ১০ বছরের একটি শিশু ছুরিকাঘাতে মারা যায়। ওই ঘটনার এক বছর পরও চীনে বসবাসরত জাপানি নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় কাটছে না। তাদের একটাই চিন্তা, এমন ঘটনা আবার না ঘটে।
শেনজেনের জাপানি স্কুলটিতে গত বছর এপ্রিল মাসে যেখানে ২৭৩ জন শিক্ষার্থী ছিল, সেখানে এখন সংখ্যাটা নেমে এসেছে মাত্র ২০৫-এ। অভিভাবকরা ভয়ে আছেন, তাই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পেটে ছুরিকাঘাতের একদিন পর ওই জাপানি স্কুলছাত্র মারা যায়। এই ঘটনার পর স্কুল এবং বাসের স্টপেজে নিরাপত্তা অনেক বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সবসময় ওই এলাকায় টহল দেয় এবং সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করে।
হামলাকারীকে গত জানুয়ারিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত জানায়, ওই ব্যক্তি অনলাইনে পরিচিতি পাওয়ার জন্য একটি নিরীহ শিশুকে হত্যা করেছে। পরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
জাপানিদের ওপর হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন চীনে জাপান বিরোধী মনোভাব বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার ছিল মুকদেন ঘটনার ৯৪তম বার্ষিকী, যা জাপানের মাঞ্চুরিয়া দখলের পথ খুলে দিয়েছিল। চীনের সরকার এ বছরকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী হিসেবে দেখছে। তাই জাপান বিরোধী এই মনোভাব আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই কারণে শেনজেনের জাপানি স্কুলটি বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গুয়াংজু এবং সাংহাইয়ের জাপানি স্কুলগুলোও ক্লাস অনলাইনে নিচ্ছে।
এর আগে, গত বছরের জুন মাসে সুঝো শহরে এক জাপানি মা ও শিশু ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় এক চীনা বাসকর্মী নিহত হন। সেই হামলাকারীকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকর করা হয়েছে। এমন একের পর এক ঘটনায় চীনের জাপানি প্রবাসীরা বেশ আতঙ্কে আছেন।
সূত্র: জাপান টাইমস
২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনে নিহত আরও ৭৯ জন