বগুড়ায় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মধুবন সিনেপ্লেক্স

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম

আধুনিকায়নের চার বছর পর স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে আর চালু থাকবে না জনপ্রিয় এ প্রেক্ষাগৃহ। বৃহস্পতিবার রাতে মধুবন সিনেপ্লেক্সের সত্ত্বাধিকারী রোকনুজ্জামান ইউনূস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মধুবন সিনেপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে শাবানা-ওয়াসিম অভিনীত ইবনে মিজান পরিচালিত ডাকু মনসুর সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করে মধুবন। তখন হলটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ১০০০। মধুবনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ব্রিটিশ আর্মির অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট এ এম ইউনূস। বাবার সঙ্গে সিনেমা হলের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন ছেলে আর এম ইউনূস রুবেল। তিনিই মধুবন হলটিকে সিনেপ্লেক্সে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। পরে ২০২১ সালে ১৫ অক্টোবর নতুন করে রূপান্তরের প্রথম শো চালু করা হয়।

মধুবন সিনেপ্লেক্সে আসন সংখ্যা ছিল ৩৩৬টি। আধুনিকায়নের পর এ হলেই রমরমা ব্যবসা করেছিল জনপ্রিয় সিনেমা পরাণ, হাওয়া, প্রিয়তমা, তুফান ও বরবাদ। পরিবার নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শকদের জন্য সর্বশেষ বরবাদ ছবির একাধিক মিডনাইট শোও চালানো হয়েছিল এখানে। দেশের সিনেমা ঈদ ছাড়া দর্শক টানতে পারছে না এই সিনেপ্লেক্স। বিদেশি সিনেমা চালাতে পারলে দর্শক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় কর্তৃপক্ষ দেশের নামকরা সিনেমাও ভালো চালাতো। কিন্তু বাইরের সিনেমা আমদানি একেবারে বন্ধ। তাই টানা লোকসান আর সম্ভব হচ্ছে না সিনেপ্লেক্স চালানো।

মধুবন সিনেপ্লেক্সের সত্ত্বাধিকারী রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, মধুবন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখছি। মাসের পর মাস লোকসান খাচ্ছি। বৃহস্পতিবার শেষ দিন। এই সপ্তাহে নন্দিনী ছবিটি চালাচ্ছিলাম, কিন্তু দর্শক পাইনি। ছবি চালানোর খরচই ওঠে না। সবশেষে তান্ডবের পর আর কোনও ব্যবসা সফল সিনেমা আসেনি। অনেক সিনেমা হলে এসেছে কিন্তু কোনও দর্শক সাড়া ফেলতে পারেনি। আমরা আর লোকসানে সিনেপ্লেক্সে চালাতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ বিল বাকি, কর্মচারীদের বেতন নিজেদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। এভাবে আর চালানো সম্ভব না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মধুবন সিনেপ্লেক্সটি বন্ধ করা। তবে আগামীতে আবার কবে চালু হতে পারে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত