আওয়ামী লীগের যারা অন্যায় করেছে তাদের বিচার করতে হবে এবং যারা নির্দোষ তারা তাদের নির্দোষিতা প্রমাণ করে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খা হলে বিকালে অনুষ্ঠিত এবি শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মনোভাব ব্যক্ত করেন।
মঞ্জু বলেন, আমরা দেখছি বিএনপি এবং জামায়াত ঝগড়াঝাটি শুরু করেছে। ছাত্রদের নতুন দল এনসিপিও এই ঝগড়াঝাটিতে যুক্ত হচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে কেউ দেশকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি না।
তিনি তার দলের প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, এবি পার্টি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের ঐক্যের জন্য মতবাদের পরিবর্তে অধিকারের গুরুত্বের উপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, সাধারণত নতুন দল কেউ করতে চায় না। ক্ষমতা বা মতাদর্শ ছাড়া কেউ নতুন কোন দলে আসতে চায় না। অনেক কষ্টে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। যখন শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছে তখন আমরা মনে করেছি আমাদের দায়িত্ব শেষ। এই নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করি নাই।
২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এই সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, বিএনপি জামায়াতসহ বিভিন্ন দল একসাথে নির্বাচন করেছে। জামায়াত ১৮ সালে উদারতার পরিচয় দিয়ে বিএনপির ধানের শীষমার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছিল। আবার বিএনপিও উদারতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের প্রতীককে জামায়াতকে ব্যবহার করতে দিয়েছে।
তিনি বিএনপি ও জামায়াতকে একই প্রতীকে নির্বাচন করতে এবং নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে এক প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যারা অন্যায় করেছে তাদের বিচার করতে হবে এবং যারা নির্দোষ তারা তাদের নির্দোষিতা প্রমাণ করে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে।
অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজকে শ্রমিকরা বেতন পায় না ঠিকমতো। আজকে একজন সাংবাদিক চার মাস বেতন না পাওয়ার কথা জানালেন। এই শহরে কিভাবে তারা ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল, ঘরের নিত্যপণ্য ক্রয় করবে।
নারীদের নিরাপত্তাহীনতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার নারী বোনেরা রাস্তায় হাঁটলে সব সময় মাথা নীচু করে হাঁটতে হয়। পোষাক নিয়ে টেনশনে থাকতে হয়। কে বদলাবে এই নিয়ম? কে পরিবর্তন করবে এই অবস্থা?
তিনি শ্রমিকদের আর্থিক সংগ্রাম ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, একটা রিকশাওয়ালা, মোবাইলের মেকার মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা আয় করে। জমি বিক্রি করে বিদেশে না গিয়ে সেই টাকা দিয়ে নিজের দেশে ব্যবসা করেন।
শ্রমিকদের ঐক্যের শক্তির উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকরাই নগর বা রাষ্ট্রকে গড়ে তোলে। শ্রমিকরা একজোট হলে একটা দেশ পরিবর্তন করে ফেলা সম্ভব। বিভেদ বা সমালোচনার রাজনীতি বাদ দিয়ে নতুন রাজনীতি শুরু করতে হবে।
এবি শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে শেখ জামালুদ্দিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।