জামালপুর সদর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তিনদিন আগে মো. আলফাজ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ঘটনার সময় মামলার তৃতীয় আসামি ঢাকায় থাকলেও তদন্ত না করে মামলার এফআইআর করা হয়েছে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা ৷ নিরপরাধ কেউ থাকলে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের জালালের পাড়া এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আলফাজের স্ত্রী অবিরন, কন্যা আলো বেগমসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ আগস্ট বাড়ি থেকে ১০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন জালালের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সামাদ। এই মামলায় প্রতিবেশী আলফাজ, তার স্ত্রী অবিরন ও কন্যা আলো বেগমকে আসামি করা হয়। তবে মামলা দায়েরের আগে ২৯ আগস্ট আলফাজকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
এর তিনদিন পর মামলা দায়ের করা হয়। আর ঘটনার সময় ঢাকাতে ছিলেন মামলার তৃতীয় আসামি আলো বেগম। এ ঘটনায় কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই মামলা এফআইআর করা হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই প্রথমে বাড়িতে ও পরে থানাতে আলফাজকে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করে পুলিশ। আলফাজকে দেখতে গিয়ে আটক হন তার স্ত্রী মোছা অবিরন। এরপর তাদের কারাগারে প্রেরণ করলে আদালত অবিরনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং আলফাজকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই মামলা প্রত্যাহার ও আলফাজের নিঃশ্বর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে আগামীতে বড় আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিষয়টি তদন্ত করব। যদি আসামি নিরপরাধ থাকে তাহলে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন।
