নবজাতকের কান্নার নানা কারণ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৪ এএম

নবজাতক শিশু একটি পরিবারে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। কখনো কখনো এই আনন্দের মধ্যেও শিশুটির কিছু অসুস্থতা বাবা-মাকে অস্থির ও উদ্বিগ্ন করে তোলে। এর মধ্যে সবচেয়ে যে সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তা হচ্ছে নবজাতকের কান্না বা কোলিক।

নবজাতকের কান্না : নবজাতক শিশু অত্যধিক কান্না করার সমস্যাকে আমরা বলি নবজাতকের কোলিক। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছয় সপ্তাহ বয়স থেকে ৬ মাস বয়সের শিশুদের প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সপ্তাহে তিন দিন যদি পেটে কষ্টকর ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে তাকে নবজাতকের কোলিক বা ইনফেন্টাইল কোলিক বলা হয়। শুরুটা ৬ সপ্তাহ বলা হলেও কখনো দুই সপ্তাহ বয়সেই শিশুদের এ রকম প্রচ- কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

কারণ : নবজাতকের কোলিকের কারণসমূহ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি। গবেষণা করে সম্ভাব্য কারণ বের করা গেছে। নিচে দেওয়া হলো

দুধের উপাদানের ল্যাক্টোজ অংশটুকু শিশু যদি সঠিকভাবে হজম করতে না পারে তাহলে তার পেটে গ্যাস জমে যায় এবং অতিরিক্ত গ্যাসের কারণে পেট ফেঁপে ব্যথা করতে থাকে।

অন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে অস্বাভাবিকতাকেও এর জন্য দায়ী করা হয়। অন্ত্রের কিছু হরমোন অস্বাভাবিক পরিমাণে থাকলেও শিশুটির পেটে ব্যথা হতে পারে।

কখনো কখনো খাদ্যথলি থেকে কিছুটা খাবার খাদ্যনালির দিকে চলে আসে যেটাকে গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বলা হয় এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা এবং কান্না হতে পারে।

সঠিক নিয়মে বুকের দুধ না খাওয়ানোর ফলে বা বোতলে খাওয়ানোর ফলে শিশুর পেটে অতিরিক্ত বাতাস গিয়ে পেটে ব্যথা হতে পারে।

ফরমুলা দুধ হজম করতে না পারলেও শিশুর পেট ব্যাথা হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে, বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা টেনশন বা স্ট্রেসে থাকলে শিশুটিও অস্থির হয়ে কান্নাকাটি করে। এ রকম কান্না করলে শিশুর কানে বা অন্য কোথাও জীবাণু সংক্রমণ আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত।

লক্ষণ : নবজাতকের কান্না সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে দেখা যায়, কখনো কখনো অন্য সময়ও শিশু কান্না করতে পারে। শিশু যখন চিৎকার শুরু করে তখন খুব অস্থির হয়ে যায়, মুখ লাল হয়ে যায়, কখনো চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। শিশু কখনো কখনো এত চিৎকার করে যে শ্বাস বন্ধ করে রাখে। হাঁটু ভাঁজ করে পেটের দিকে রাখে, চোখ মুখ কুঁচকে রাখে এবং হাত মুঠি করে থাকে।

চিকিৎসা : প্রথম প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা হচ্ছে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। প্রতিবার দুধ গেলার সময় বাচ্চা যেন বাতাস না গিলে ফেলে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে তুলে ঢেঁকুর ওঠাতে হবে।

ব্যথা হলে শিশুর পেটে গরম সেঁক দিলে ব্যথা কমে যায়। শিশুকে কোলে নিয়ে খোলা জায়গায় ধীরে ধীরে হাঁটলে অনেক সময় কান্না কমে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সাপোজিটরি দিয়ে শিশুকে পায়খানা করাতে হবে। অনেক সময় শিশু বিশেষজ্ঞরা কিছু উপকারী অনুজীব, ল্যাক্টোজ এনজাইম দিয়ে থাকেন, যদিও তা পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। শিশুর জন্য কষ্টকর হলেও কোলিক ক্ষতিকর কোনো অসুখ নয় এবং ৩-৪ মাস বয়স থেকে সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে যায়। ধৈর্য ধরুন, শিশুর কান্নার সময় শান্ত থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত