ইসলামের হিজরি সনের চতুর্থ মাস রবিউস সানি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:২৬ পিএম

ইসলামী হিজরি সনের চতুর্থ মাস রবিউস সানি। অনেকে একে আবার রবিউল আখির বলেও উল্লেখ করেন। ‘রবিউস সানি’ শব্দের অর্থ ‘দ্বিতীয় বসন্ত’। যদিও এই নাম প্রাক-ইসলামিক যুগ থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আল্লাহতায়ালা সময় ও মাসের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলেন সূর্য ও চন্দ্র হিসাবের জন্য নির্ধারিত।’ (সূরা আর-রহমান,আয়াত: ৫)

যদিও কোরআন ও সহিহ হাদিসে এই মাসের নির্দিষ্ট কোনো ফজিলতের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

রবিউস সানি মাসটি ইসলামী আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে একটি মর্যাদাপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এই মাসে অনেক আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির জন্ম ও ওফাত হয়েছে। তাদের জীবনের আদর্শ ও আত্মত্যাগ মুসলমানদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। এই মাসে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আধ্যাত্মিক ঘটনা হলো হযরত গাউসুল আজম আবদুল কাদের জিলানির (র.) ওফাত দিবস। তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী আউলিয়া। তার শিক্ষা, ত্যাগ ও দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বহু মানুষ ধারণ

রবিউস সানি মাস ১১ তারিখ (৫৬১ হিজরি/১১৮২ খ্রিষ্টাব্দ) তারিখে মহান আলী হজরত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যু উপলক্ষ্যে কিছু জায়গায় ‘ফাতিহা ইয়াজদাহম’ নামে ওরস, মিলাদ বা বিশেষ মাহফিল পালিত হয়।

কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে মৃত্যুবার্ষিকী, ওরস বা নির্দিষ্ট তারিখে অনুষ্ঠান পালন করা অনুমোদিত নয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনে এমন কিছু নব উদ্ভাবন করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত। (সহিহ বুখারি ২৬৯৭।)

তবে শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) ছিলেন উচ্চ মর্যাদার বুজুর্গ ও অলি। তার জন্য অন্য যে কোনো সময়ে দোয়া, ইসালে সওয়াব ও কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ ও উত্তম। নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে উদ্যাপন করা বিদআত।

রবিউস সানিতে সুন্নাহসমর্থিত আমল

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে মাসভিত্তিক বা দিনভিত্তিক কিছু আমলের কথা এসেছে, যা সারা বছরই পালনযোগ্য। যেমন-তাহাজ্জুদের নামাজ: হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনটি আমল কখনো পরিত্যাগ করেননি : তাহাজ্জুদ, আইয়ামে বিদের রোজা ও রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ।’(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৭৫।)

আইয়ামে বিদের রোজা : প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬০।)

সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের আমলগুলো সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, তাই আমি চাই আমার আমল যখন পেশ করা হবে, আমি যেন সিয়ামরত থাকি।’ (সুনান তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭।)

এগুলো ছাড়া রবিউস সানির জন্য আলাদা কোনো বিশেষ নামাজ, রোজা বা আমল শরিয়তে নির্ধারিত নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত