কুয়াকাটার গঙ্গামতি সৈকত ঢেউয়ের গর্জন, আর পর্যটকের কোলাহলে ভরে থাকে চারপাশ। সেই ভিড়েই দাঁড়িয়ে থাকত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রাজু (১৩)। সাত বছর আগে ঝড়ে সাগরে হারিয়ে গেছেন তার জেলে বাবা। মা খাবারের দোকানে কাজ করেন। সংসারের হাল ধরতে রাজু গাছের সঙ্গে পুরনো জাল আর কাঠ বেঁধে তৈরি করেছিল ছয়টি দোলনা।
ভোরে সৈকতে গিয়ে দোলনাগুলো বেঁধে রাখত সে, দুপুর পর্যন্ত শিশুদের হাসি আর পর্যটকের আনন্দেই কাটত তার দিন। প্রতিদিন প্রায় দুইশ টাকা আয় হতো, যা দিয়ে চলত সংসার, মায়ের খরচ আর নিজের ওষুধ।
কিন্তু হঠাৎই সেই জীবিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এক মাস আগে সৈকতে চেয়ার-ছাতার ব্যবসা শুরু করেন জাহিদ হাসান। তার হয়ে ব্যবসা চালাতেন স্থানীয় আলিফ। প্রত্যাশা মতো আয় না হওয়ায় রবিবার দুপুরে আলিফ রাজুর ছয়টি দোলনায় আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। মুহূর্তেই সব ভস্মীভূত হয়।
পরদিন সকালে সৈকতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায় রাজু। ছাইভস্ম আর ভাঙা দড়ি দেখে চোখের পানি ঝরে পড়ে। এক পর্যটক ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সেখানে রাজুকে বলতে শোনা যায় আমার দোলনা গেছে, স্বপ্ন পুড়েছে। এখন কীভাবে বাঁচব বাবা নেই, মায়ের টাকায় সংসার চলবে কীভাবে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভ্রাম্যমাণ দোকানি আলমগীর হোসেন বলেন, ঝড়ে বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রাজুই সংসারের ভরসা,দোলনার আয় দিয়েই মা-ছেলের খরচ চলত।
চেয়ার-ছাতার ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান জানান, ঘটনার জন্য আলিফ দায়ী। পরে তাকে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজুকে ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচশ টাকা দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন কর্মী আবুল হোসেন রাজু বলেন, গঙ্গামতিতে এখন পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ব্যবসার নামে হয়রানি বাড়ছে। দোলনায় অগ্নিসংযোগ সৈকতের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে। আজ পর্যটকরা ছাই দেখেছে, কাল হয়তো তারা আসবেই না।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার পর সরেজমিনে তারা গিয়েছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। দায়ীদের দিয়ে নতুন দোলনা তৈরি করানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন,গঙ্গামতিতে পর্যটকের ভিড় বেশি হওয়ায় শিগগিরই সেখানে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে। এতে পরিবেশ ও নিরাপত্তা আরও উন্নত হবে।
