চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতাদের উৎপাদন দিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
ওয়াশিংটন জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন হার দ্বিগুণ থেকে চারগুণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পেন্টাগন।
চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ কমে যাওয়ার উদ্বেগ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।
তবে রয়টার্স এ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি
তবে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেড়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা শেয়ারের দাম। সোমবার প্রি-মার্কেট লেনদেনও বেড়ে গেছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা—এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল—এর উৎপাদন দ্বিগুণ বা এমনকি চারগুণ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন ‘মিউনিশনস অ্যাক্সেলেরেশন কাউন্সিলের’ মাধ্যমে উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফেইনবার্গ সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সাপ্তাহিকভাবে নির্বাহীদের সঙ্গে ফোনালাপ করে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
খবরের পরেই প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ার বেড়ে যায়। এরে মধ্যে প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে আরটিএক্স ২ দশমিক ৫ শতাংশ, লকহিড মার্টিন ২ দশমিক ৩ শতাংশ, নর্থরপ গ্রুম্যান ০.৯ শতাংশ, বোয়িং ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এল৩ হ্যারিস ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। রাশিয়ার ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ কমে যাওয়ার উদ্বেগ থেকেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই সংঘাতে উন্নতমানের শত শত ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পেন্টাগন ২০২৪ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ২ হাজার প্যাক-৩ মিসাইল উৎপাদনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায় যা বর্তমান হারের প্রায় চারগুণ।
প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো নাকি ইতোমধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বোয়িং সম্প্রতি ৩৫ হাজার বর্গফুট জায়গা বাড়িয়ে প্যাট্রিয়ট সিকার তৈরির কারখানা সম্প্রসারণ করেছে এবং নর্থরপ গ্রুম্যান রকেট মোটর উৎপাদন বাড়াতে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
তবে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ছাড়া পেন্টাগনের লক্ষ্যগুলো আদৌ অর্জনযোগ্য কি না। সরকারের কাছ থেকে বেশি অর্থ ও নতুন চুক্তি ছাড়া এসব টার্গেট বাস্তবসম্মত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন।
