প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতা ভারতের জন্য হুমকি: আরএসএস প্রধান

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম

দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগওয়াত। তিনি বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা শুধু সেই দেশগুলোকে দুর্বল করছে না, বরং বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগও সৃষ্টি করছে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) নাগপুরে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণে এ কথা বলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। এই অনুষ্ঠানে ২১,০০০-এরও বেশি স্বয়ংসেবক অংশ নেন।

ভাগওয়াত বলেন, যখন নেতা জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যান, তখনই অসন্তোষের বীজ রোপিত হয়। বাংলাদেশ ও নেপালে যা ঘটছে, তা কোনো পক্ষকেই লাভবান করছে না। ড. বি.আর. আম্বেডকারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, হিংসার পথে কোনো পরিবর্তন আনা যায় না। এটি কেবল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে-এটাই ‘অরাজকতার ব্যাকরণ’।

ভাগওয়াতের মতে, নেপালের অস্থিরতা কেবল একটি নিরাপত্তাজনিত ইস্যু নয়, এটি আমাদের অঞ্চলের মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলছে। অনেকেই অতীতে ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তাই এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আবেগের সংযোগের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি তার ভাষ্যে বলেন, যখন একটি দেশের উন্নয়নশীল শক্তি নিয়মিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পদ্ধতিতে তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তখন দেশটির নিজের শক্তি প্রয়োগের সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসে।

আরএসএস প্রধান এপ্রিল ২২-এর পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার কথাও স্মরণ করেন, যাতে ২৬ জন ভারতীয় নিহত হন। ভাগওয়াত বলেন, সমগ্র জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু সরকার ও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতির সাথে কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশের ঐক্য, বাহিনীর সাহস এবং সরকারের সমন্বয়ই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রকৃত বন্ধুদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। অনেকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও দেশের নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকা একান্ত প্রয়োজন।

মার্কিন শুল্ক নীতির প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, আমেরিকা যে নতুন শুল্ক নীতি গ্রহণ করেছে তা প্রায় সকলের উপর প্রভাব ফেলছে। তাই, আমাদের বিশ্বব্যাপী সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তা না করে, একা টিকে থাকা সম্ভব নয়। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এই নির্ভরতা যেন বাধ্যবাধকতায় পরিণত না হয়। অতএব, আমাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। আমাদেরকে এমন একটি দেশ হতে হবে যা আমরা চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত