ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্যাটারিচালিত এক ভ্যানচালককে মারধরের পর তার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শামছুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামে। ঝন্টু বর্তমানে জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
এ ঘটনায় আজ (৬ অক্টোবর) সোমবার ভুক্তভোগী ভ্যানচালক মো. হারুন খান (৪৮) বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ঝন্টুকে ১ নম্বর আসামি করে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৪–৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— চেয়ারম্যান শামছুল হক ঝন্টু (৪৩), বাচ্চু মুন্সী (৫৫), আব্বাস আলী (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৬), আ. হেকিম (৬০) এবং শাহাব উদ্দিন খা (৫৫)।
জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইউপি চেয়ারম্যান ঝন্টুর নির্দেশে তার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভাড়ায় না নেওয়ার কারণে চেয়ারম্যান নিজেই ভ্যানচালক হারুনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ১ অক্টোবর হারুন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ২ অক্টোবর পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন (৩ অক্টোবর) চেয়ারম্যান ঝন্টু তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হারুনের বাড়িঘরে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এমনকি হারুনের উপার্জনের একমাত্র সম্বল ভ্যানটিও তারা নিয়ে যায়।
এ সময় হারুনের মা জোবেদা খাতুন (৭৫) ও স্ত্রী জোসনা বেগমকেও পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর থেকে চেয়ারম্যানের ভয়ে ভ্যানচালক হারুন ও তার পরিবার বাড়িছাড়া জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভ্যানচালকের বাড়িঘর কুপিয়ে তছনছ করে ফেলা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ লাইন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে আছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভ্যানচালক হারুন খান বলেন, “সারাদিন অটোরিকশা চালিয়ে বিকেলে বাড়ি ফিরি। তখন শরীর ক্লান্ত ছিল, গাড়িতেও চার্জ ছিল না। এমন সময় চেয়ারম্যান এসে বলেন, তার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভ্যানে করে নিয়ে যেতে হবে। আমি বলি— গাড়িতে চার্জ নেই, শরীরও ভালো না, যেতে পারব না। এতেই রেগে গিয়ে তিনি কাঠের লাঠি দিয়ে আমাকে পেটাতে শুরু করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করি। এরপর চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু ভাঙচুর ও লুট করে নিয়ে গেছে। এখন আমি পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া।”
তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান হুমকি দিয়েছে— বাড়িতে ফিরলে আমিসহ পরিবারকে মেরে ফেলবে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ভ্যানচালকের স্ত্রী জোসনা বেগম (৪৫) বলেন, “কয়েক দিন ধরে আমার স্বামী গাড়ি নিয়ে বের হতে পারে না, আমরাও বাড়িতে যেতে পারি না। সন্তানদের নিয়ে এখন কোথায় যাব, কী খাব! গরিব বলে কি আমরা এই ঘটনার বিচারও পাব না?”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক ঝন্টু বলেন, “আমার ওপর আনা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। হারুনের ওপর এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত। কেউ তাকে ভাড়া নিতে বললে সে খারাপ ব্যবহার করে। তাই ক্ষোভে স্থানীয়রাই তার বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।”
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় ভ্যানচালক হারুন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
