ক্যারিয়ারের দুই দশকে রুনা খান

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০১:০১ পিএম

ক্যারিয়ারের দুই দশক নিয়ে রুনা খান বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে আমার কাছে যেসব কাজের প্রস্তাব এসেছে, তার মধ্যে যেগুলো ভালো লেগেছে, কেবল সেটাই করেছি। অন্যদিকে গত দুই দশকে আমার অধিকাংশ নারী সহকর্মীর ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমে। পরিচালকের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে, পরকীয়া এ সবের মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার হয়েছে। যত দিন পরিচালকের সঙ্গে প্রেম বা সম্পর্ক, ততদিন সেই পরিচালকের কাজে ওই অভিনেত্রী; সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর একটা পাসিং শটেও তাকে আর পাওয়া যায় না। এসব অসততার চর্চা করে পর্দায় তারা বোঝানোর চেষ্টা করে, লম্বা হাতার ব্লাউজ, গা-ঢাকা পোশাক পরা মানেই শালীনতা! অথচ তাদের বাস্তব জীবনে শালীনতার লেশমাত্র নেই। এই পুরো শ্রেণির মাথায় আগুন ধরে গেছে, সারা জীবন-যৌবন দিয়ে, পরিচালকের প্রেমিকা হয়েও তারা ক্যারিয়ার গড়তে পারল না। আর আমি কারও সঙ্গে প্রেম-পরকীয়া ছাড়া যোগ্যতা দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলাম। এটা সহ্য করতে না পেরে বলা হচ্ছে, আমার পোশাক অশালীন।’ 

পোশাক বিতর্ক প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন তুলে অভিনেত্রী বলেন, ‘কাপড়ের আবার অশালীনতা কী? অশালীন তো হয় কর্ম। বিশেষ করে আমাদের নাটকের অভিনেত্রীদের বেশির ভাগের জীবন চূড়ান্ত অশালীন কর্মকাণ্ডে ভরা, আর পর্দায় শরীর ঢাকা কাপড় পরে তারা শালীনতা প্রতিষ্ঠা করেন! পোশাকের কোনো শালীনতা-অশালীনতা হয় না। বোরকা যেমন পোশাক, সুইম স্যুটও পোশাক, যার যেটা ভালো লাগবে, পরবে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, এটা আমাদের সমাজে যায় না। কিন্তু পরিচালকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমে কাজ করা পৃথিবীর কোন সমাজে গ্রহণযোগ্য? দেখুন, কার স্কিন কে কতখানি দেখাবে, সেটা তার ব্যাপার। আর স্কিন কি রুনা খানই প্রথম দেখিয়েছে? আমি তো শাবানা আপাকেও ক্লিভেজ দেখিয়ে নাচতে দেখেছি। আমি সিনেমা দেখা মানুষ ভাই; পর্দায় শাবনূর, মৌসুমী, শাবনাজ আপা প্রত্যেকের ক্লিভেজ দেখেছি। তাহলে কি ২০-২৫ বছর বয়সে দেখানো যাবে, আর আমার ৪০ বছর বলে দেখানো যাবে না? কিন্তু এই দেশে তো ৫০-এর অভিনেত্রীও দেখাচ্ছেন। তাহলে? এই দৃষ্টিভঙ্গিটা কারা তৈরি করছেন? যারা ব্যক্তিগত জীবনে অশালীনতার চর্চা করে পর্দার পোশাক দিয়ে শালীনতার কথা বলেন।’ 

রুনা খান ২০০২ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের কর্মী হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০০৫ সালে জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান সিসিমপুরের মাধ্যমে পেশাগত অভিনয় জীবনের শুরু। এরপর এক নাটকে অভিনয়ের সুবাদে খুব সহজেই নির্মাতা ও দর্শক মহলে নজর কাড়তে থাকেন তিনি। লম্বা একটা সময় ছোট পর্দায় ব্যস্ত সময় পার করার পর নজরে আসেন চলচ্চিত্র পরিচালকদের। শুরু হয় আরেক যাত্রা। চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে সুনামের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েব দুনিয়াতেও মেলে ধরেন নিজেকে। তিনি ২০১৭ সালে ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পাশর্^ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত