নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন না ট্রাম্প, উদ্বিগ্ন নরওয়ে

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই নরওয়ের রাজনীতিকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করেছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পুরস্কার না দিলে যুক্তরাষ্ট্র-নরওয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তি পুরস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় সোমবার। অর্থাৎ ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ট্রাম্প-মধ্যস্থ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই কমিটির ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়।

সময়ের এই পার্থক্য এবং নোবেল কমিটির গঠনপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের ধারণা ছিল, ট্রাম্প এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন না।  এ থেকেই নরওয়েজিয়ান মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়-পুরস্কার না পেলে ট্রাম্প কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে!

নরওয়ের সমাজতান্ত্রিক বাম দলের নেতা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র কিরস্তি বার্গস্তো এ প্রসঙ্গে বলেন, অসলোকে এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এক চরমপন্থী পথে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় আঘাত করছেন, গোপন পুলিশ দিয়ে মানুষ ধরছেন, প্রতিষ্ঠান ও আদালতের ওপর দমন চালাচ্ছেন। এমন কর্তৃত্ববাদী নেতার কাছ থেকে যেকোনো প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি যদিও এ-ও স্বীকার করেন যে নোবেল কমিটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং নরওয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তে কোনো হাত নেই। তবে তাঁর সন্দেহ, ট্রাম্প এই বিষয়টা বোঝেন কিনা। তাই তাঁর পক্ষ থেকে যেকোনো কিছু আশা করা যেতে পারে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে ট্রাম্প নরওয়ের অর্থমন্ত্রী ও ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গকে ফোন করে নোবেল পুরস্কার সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও তিনি দাবি করেন, তিনি সাতটি ‌‘শেষ না হওয়া যুদ্ধ’ বন্ধ করেছেন এবং সবার মতে তাঁরই শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত।

নরওয়ের সবুজ দলের নেতা আরিল্ড হার্মস্টাড ট্রাম্পের এই দাবিকে সংযত করে দেখছেন। তাঁর মতে, শান্তির পুরস্কার কোনো আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া কিংবা সামাজিক মাধ্যমে চিৎকার করে অর্জন করা যায় না। এটি ধারাবাহিক ও স্থায়ী উদ্যোগের ফল। তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেন, একটি দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ দিয়ে অতীতের সহিংসতা আর বিভেদের ভূমিকা মুছে ফেলা যায় না।

নরওয়ের সংবাদপত্র বিশ্লেষক হ্যারাল্ড স্টাংহেলে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প যদি প্রতিক্রিয়া দেন, তাহলে তা হতে পারে নরওয়ের ওপর শুল্ক আরোপ, ন্যাটোর খরচ বাড়ানোর দাবি, এমনকি নরওয়েকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করাও। তিনি বলেন, ট্রাম্প এতটাই অনির্দেশ্য যে কেউই নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অসলো পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিনা গ্রেগার  ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে স্বীকার করলেও তাঁর সামগ্রিক রেকর্ডকে নোবেলের ভাবধারার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যাওয়া, গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ, এমনকি ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার মতো অবস্থান নিয়েছেন-যা আলফ্রেড নোবেলের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সবমিলিয়ে, নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এবার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, যা এই পুরস্কারের ইতিহাসে খুবই বিরল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত