বিওন্ড দ্য বর্ডার্স: সীমানার ওপারে শিল্পের জাগরণ 

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৭ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার গওয়াংজু শহরের ‘এশিয়ান কালচার সেন্টার’ এ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক উৎসব ‘বিয়ন্ড বর্ডারস: দ্য নিউ ওয়েব অব এশিয়ান পারফর্মিং আর্টস। এশিয়ার ১১টি দেশ যথাক্রমে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ এই উৎসবে একত্রে বুনেছে সংস্কৃতির এক রঙিন গাথা।

উৎসবের প্রথম দিন ‘রিদমস অব এশিয়া’ পর্বে রঙ, তাল ও আবেগের মেলবন্ধনে যেন জেগে ওঠে পুরো গওয়াংজু। একে একে মঞ্চে আসেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। তারা নিজ নিজ সংস্কৃতির রঙে, ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় অনুষ্ঠান মাতিয়ে তোলেন। কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ড্রাম বাজনার গর্জনে মঞ্চ যখন কেঁপে ওঠে, তখন শিল্পের প্রাণে বাজে একটাই সুর ‘আর্ট ইজ নট বাউন্ড বাই জিওগ্রাফি, ইট ব্রেথস ইন এভরি হিউম্যান সওল’।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি ছিল ওয়ার্কশপ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়। জাপান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের কোরিওগ্রাফারদের নির্দেশনায় অংশগ্রহণকারীরা মেতে ওঠেন আধুনিক ও সমসাময়িক নৃত্যের জগতে। একটি মঞ্চ, বহু দেশ, অথচ হৃদস্পন্দন একই, এই বিনিময়ের মুহূর্তগুলোয় সৃষ্টি হয় এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্য।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের সন্ধ্যায় পারমরমেন্স নাইট- ভয়েস অব ট্রাডিশন এ মঞ্চে একে এক উঠে আসে চীনের ফান ড্যান্স, থাইল্যান্ডের খোন মাস্ক পারফরমন্সে, শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিয়ান ড্যান্স এবং বাংলাদেশের দল ‘কাথ্যাকিয়া’র  হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশনা। লোকনৃত্য, শাস্ত্রীয় ছন্দ ও আধ্যাত্মিকতার মায়ায় গাঁথা  ‘কাথ্যাকিয়া’-র উপস্থাপনা ছিল কবিতার মতোই প্রাণস্পর্শী।

এ ছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্কৃতির স্রোতে মিশে যায় একাত্মতার মহাসাগরে। হৃদয় থেকে হৃদয়ে পৌঁছে যায় এক বার্তা- সত্যিকারের শিল্প কখনো সীমান্ত মানে না, তার ডানা ছুঁয়ে যায় আকাশের ওপারে। ‘বিওন্ড দ্য বর্ডার’স শুধুই একটি উৎসব নয়, এ এক শিল্পযাত্রা, এক অনুভূতির সেতুবন্ধন। এখানে ভাষা ছিল না বাধা, ছিল না দূরত্ব ছিল কেবল নৃত্যের স্পন্দন, গানের সুর, আর শিল্পীর চোখে জেগে থাকা মানবতার দীপ্ত আলো। 

সৈয়দা সাহিদা বেগম
কালচারাল অফিসার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
এশিয়ান কালচার সেন্টার, গওয়াংজু, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত