চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় অবস্থিত একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে লাগা আগুন এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের তীব্রতায় ভবনটি ধসে পড়ার পাশাপাশি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তাদের সহায়তায় কাজ করছে নৌবাহিনীর ৪টি ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভাতে কাজ করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন কালো ধোঁয়া। আগুন ধীরে ধীরে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন দেখতে অনেকেই ভবনটির আশপাশে ভিড় করেছেন। তাদের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সরিয়ে দিচ্ছিলেন।
সিইপিজেড সূত্র জানায়, ভবনটিতে মোট ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে তাদের কেউ আহত হননি বলে জানান সিইপিজেড’র নির্বাহী পরিচালক আবদুস সুবাহান।
জি হং মেডিকেল কোম্পানির শ্রমিক ফারজানা আকতার বলেন, যে জায়গা থেকে আগুন লেগেছে সেখানে দুটি কারখানার গুদাম। সেখানে যাওয়া নিষেধ। তিনি ষষ্ঠতালায় কাজ করতেন। দুপুরে খাওয়ার পর পরই ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার শুনে সবার সঙ্গে তিনিও বেরিয়ে পড়েন।
জি হং মেডিকেল কোম্পানির সুপারভাইজার ফাহিমুল মাহমুদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমি চারতলায় ছিলাম। দুপুরের দিকে তিনি হঠাৎ জরুরি অ্যালার্ম বাজতে শুনি। এরপর জানতে পারি, আগুন লেগেছে। শুরুতে আগুন কম ছিল। এখন বেড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। কারখানার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে দেশ রূপান্তরের ফটোসাংবাদিক আকমাল হোসেন জানান, কারখানাটি সাততলা বিশিষ্ট। আগুন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনা, নৌ বিমানবাহিনীর চারটি ইউনিট যোগ দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আকমাল জানান, বেলা দুইটার দিকে প্রথমে সাততলায় আগুন লাগে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। সাততলা ভবনটির নিচতলার গুদামে রয়েছে হাসপাতালে ব্যবহৃত পণ্য তৈরির ৮ দিনের কাঁচামাল। এ ছাড়া ভবনের চতুর্থ তলায় রয়েছে তুলার গুদাম। আগুন লাগার কারণে তা বের করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার সাতশতাধিক শ্রমিককে নিরাপদে বের করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারখানায় কর্মরত বিদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশপাশের সব কারখানা বন্ধ করে শ্রমিক ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের পাশে আছে রাসায়নিব পণ্য তৈরির একটি কারখানা। আগুনের ভয়াবহতা দেখে ইপিজেড জুড়ে শ্রমিক-কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস, বিমান, সেনা ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের পাশের একটি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে পানি ছুড়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বরে জানা গেছে।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামির হোসেন বলেন, ইপিজেডের ভেতরে একটি কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস, বিমান, সেনা ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানান ওসি জামির হোসেন।
