জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিরপুরে অগ্নিনির্বাপণ সনদ ছাড়া পরিচালিত কেমিক্যাল ও পোষাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শ্রমিক নিহত, অর্ধশতাধিক আহত এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডে অগ্নিনির্বাপণ সনদ ছাড়া নির্মিত কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচার ও শাস্তি, শ্রম আইন সংশোধন করে আইএলও কনভেনশন ১২১ এর আলোকে ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণ, ইপিজেডসহ সকল কারখানায় বাধাহীন ভাবে কলকারখানা পরিদর্শকদের পরিদর্শনের এবং ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশের শীর্ষ ১৪ টি জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জোট শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ - স্কপের আহ্বানে প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং অপর যুগ্ম সমন্বয়ক আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নুর মো. আকন্দ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আজিজুন নাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেমনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল্লাহ বাদল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ, মিরপুর শিয়ালবাড়ীর কেমিক্যাল ও গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের প্রায় প্রতিটি ঘটনার পরে শোনা যায় যে কারখানাটির অগ্নিনির্বাপণ সনদ বা কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে প্রশ্ন জাগে ঘটনা সংগঠিত হওয়ার আগে কেন কারখানাগুলির অনুমোদনহীনতার খবর প্রকাশ হয়না? ইপিজেড এর মত সুরক্ষিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন ছাড়া কিভাবে একটি আটতলা কারখানা ভবন গড়ে উঠতে পারে?
নেতৃবৃন্দ বলেন, মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডের স্থানের কারখানা ভবনগুলির ঘনত্ব এবং কাঠামো থেকে কোন ভবনকেই শিল্প কারখানা হিসাবে গণ্য করা যায় না। অর্থাৎ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), কলকারখানা পরিদর্শন প্রতিষ্ঠান (ডাইফ) এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অগ্নিনির্বাপণ সনদ প্রদানের দায়িত্বপালনকারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেউই তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। একইভাবে, পরিদর্শনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়ে সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ। নেতৃবৃন্দ, শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সমস্ত শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠানকে একটি পরিদর্শন কাঠামোর আওতায় আনার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা ও শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থে পরিবারকে আজীবন আয়ের মানদণ্ডে ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
