রাকসুতে পরাজিতদের আয়োজনে যোগ দিলেন জিএস আম্মার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে বিজিতদের একাংশ বনভোজন ও পার্টি করছেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাশ বাংলাদেশ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়। এতে ছাত্রদল, বামজোট সমর্থিত প্যানেলসহ বিভিন্ন প্যানেলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নেন। 

আয়োজকেরা জানান, চারটি লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এগুলো হলো- রাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা; প্রতিনিধিদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করা; রাকসু যেন কোন দল বা মতের উদ্দেশ্য সরবরাহ না করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং সর্বোপরি দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে নিজেদের সক্রিয় অবস্থান ধরে রাখা।

আয়োজনে অংশ নিয়ে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, আমরা পরাজিত হলেও এখনো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডার। আমাদের একটি উদ্দেশ্য যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা যেন তাদের মেয়াদকালে তাদের ইশতেহার গুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে। সেজন্য তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং তদারকি করার দায়িত্ব আমরা যারা হেরেছি তাদের সবার।’

নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমানকে উদ্দেশ্যে করে তিনি আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জাহিদ বলেছিলেন যে আমরা যেই বিজয়ী হই আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করব। তিনি যেন তার কথা রাখেন তার কাছে এই আহ্বান রইল। তারা যদি তাদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি থেকে এক বিন্দু বিচ্যুত হয়, আমরা সকলে একসঙ্গে তাদেরকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব।’

স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী শাহ পরাণ লিখন বলেন, ‘আমরা যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি তাদের সবারই ক্যাম্পাস নিয়ে স্বপ্ন ছিল। আমরা যে হেরে যাওয়ার কারণে হারিয়ে যাইনি, সেই স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত হয়নি তা জানান দিতেই আজকের এই আয়োজন। বিজয়ীরা আগামীতে ক্যাম্পাসে তাদের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়নে আমাদের সহযোগিতা পাবে। তবে তারা বিপথে গেলে যে একচুলও ছাড় পাবে না, তাও আমরা জানিয়ে দিচ্ছি এই আয়োজন থেকে।’

আয়োজনের শুরুতে ছিল পরিচয় পর্ব। পরে অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য দেন অনেকে। রাত ৯টার দিকে খেলাধুলা, সেলফি তোলা চলছিল। সেলফি তোলার সময় তারা ‘হারু পার্টি, সবাই মিলে হারু পার্টি’, ‘তুমি কে আমি কে, রাবিয়ান-রাবিয়ান’ স্লোগান দেন। অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজনসহ আরও কিছু পর্ব রয়েছে বলেও জানান আয়োজকরা। রাতে বিজয়ী জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার যোগ দেন সেই পিকনিকে। আম্মারকে সাথে নিয়ে পরাজিত প্রার্থীরা তুমুল নাচ গানে মেতে উঠেন। সালাহউদ্দিন আম্মারকে সাথে নিয়ে একসাথে নাচ গানে মেতে উঠেন পরাজিত ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর।  

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ৩৫ বছর পর রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে রাকসুর ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি ও এজিএসসহ ২০টি পদেই জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল।

১৭টি হল সংসদের শীর্ষ (ভিপি, জিএস, এজিএস) ৫১ পদেও জিতেছেন ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা। আর সিনেট ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদের মধ্যে তিনটিতে তারাই জয়ী হয়েছে। রাকসুর বাকি তিন পদের মধ্যে জিএস পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের মোছা. নার্গিস খাতুন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে তোফায়েল আহমেদ তোফা জয় পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সব পদে ৯০২ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত