রাকসুর প্রচারণা শেষ, ব্যালটবক্সে থাকবে সিসি ক্যামেরার নজরদারি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। শেষ দিনে ক্যাম্পাসে প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা দেখা গেছে। এদিকে শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ক্যাম্পাসে মাইকিং করে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা জানাচ্ছে প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণের অভিযোগ এনে চারটি হলের প্রজেকশন সভা (পরিচিতি) সভা স্থগিত করেছে ছাত্রশিবির মনোনিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচন কমিশন বলছে, তাদের সব প্রস্তুতি শেষ। শেষ সময়ে শুধু বুথ বসানোর কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পরে ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। প্রতিষ্ঠার পরে পাকিস্তান আমলের ১৪ বছরে নির্বাচন হয়েছে ১০ বার এবং স্বাধীনতার ৫৪ বছরে নির্বাচন হয়েছে ৬ বার।

প্রথম দুই মেয়াদে ‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন(রাসু)’ নামে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)’ নামে ১৪বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে নির্বাচন হওয়ার পর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ফলে নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন শিক্ষার্থীরা। রাকসুর জন্য প্রশাসনকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে চাপ দিতে থাকেন তারা। আন্দোলনের মুখে ঘোষণা করা হয় তফসিল। তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীরা শেষ সময়ের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে বৃহস্পতিবারের এ নির্বাচনে ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটার রয়েছে। রাকসুর ২৩টি পদের বিপরীতে ২৪৭ জন এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী লড়াই করবেন। এর ভেতর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৮ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে (জিএস) ১৩ ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬ জন।

রাকসুর অন্যান্য পদের মধ্যে ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে ৮ জন, সহকারী ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে ৬, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০, সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে ৬, সহকারী মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে ৮, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩, সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৮ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় এসেছে।

এ ছাড়া মিডিয়া ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন, সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৮, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে ৬, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২, সহকারী পরিবেশ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৬ এবং নির্বাহী সদস্যপদে ৫৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এ নির্বাচনে আলোচিত প্যানেল গুলো হলো- ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃত্বে গঠিত ‘রাকসু ফর র‌্যাডিক্যাল চেঞ্জ’, সাবেক সমন্বয়কদের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবাদবিরোধি ঐক্য’, বাম জোটের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’, ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ঘোষিত ‘অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪’, সাবেক আরেক নারী সমন্বয়কের নেত্বতে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন মনোনিত ‘সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ’ ।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম অ্যাকাডেমিক ভবনের ফটকে দাড়িয়ে ছিলেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। তারা ভবনে প্রবেশ ও বাইরে আসা শিক্ষার্থীদের হাতে দিচ্ছেন লিফলেট ও প্রচারপত্র। অনেকে শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন ছোট ছোট বুকমার্ক দিয়েছেন কেন্দ্রে তার নামটি খুজে পাওয়ার জন্য।

শুধু জামাল নজরুল ইসলাম অ্যাকাডেমিক ভবন নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনেই এমন চিত্র ছিলো। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট, টুকিটাকি চত্বর, আমবাগানসহ শিক্ষার্থীদের প্রধান আড্ডার স্থানগুলো ছিল প্রার্থীদের প্রধান টার্গেট। এ জায়গাগুলোতে তারা জমজমাট প্রচারণা চালিয়েছেন। এ দিন আগত সকল শিক্ষার্থীর হাতে প্রার্থীদের প্রচারপত্র দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত