মিরপুরের কালো উইকেটের রহস্য ভেদে ব্যাটসম্যানদের বিশেষ প্রস্তুতি

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ আগামীকাল সিরিজ নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে নামবে। প্রথম ওয়ানডেতে জয় এলেও মিরপুরের মন্থর উইকেটে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম স্পষ্ট ছিল, বিশেষ করে প্রথম চার ব্যাটার মাত্র ৮ রানে ফিরেছিলেন। তাদের আউটের ধরনেই বলের আচরণ বুঝতে সমস্যার বিষয়টি ধরা পড়ে। এই দুর্বলতা কাটাতে এবং স্পিন সামলানোর কৌশল রপ্ত করতে আজ দলীয় অনুশীলনে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

ফিল্ডিং অনুশীলনের শেষে ইনডোরে যাওয়ার পথে সেখানে কোচ সিমন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ প্রায় ১৫ মিনিট ধরে আলোচনা করেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল— নিজেদের জয়ের স্বার্থে মিরপুরের উইকেটে টিকে থাকার কৌশল এবং স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি।

সিমন্স, সালাউদ্দিন, মিরাজ মিলে ১৫ মিনিট আলোচনা করে নেমে পড়েন বিশেষ অনুশীলনে। ছবি: দেশ রূপান্তর

সাধারণত ম্যাচের আগে ব্যাটসম্যানদের বড় শটের অনুশীলন বা ‘রেঞ্জ হিটিং’ করতে দেখা গেলেও আজ দৃশ্যটা ছিল আলাদা। সেন্টার উইকেটের নেটের পাশে ফিল্ডার সাজিয়ে নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও তানভির ইসলামের মতো স্পিনারদের বল খেলেছেন প্রায় সব ব্যাটসম্যান। সিমন্স প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দলকে ম্যাচ পরিস্থিতির অনুকরণে অনুশীলন করান।

দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলীয় অনুশীলনে এই ভিন্নতার ছাপ নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তাঁর কথায়, ‘আমরা অনুশীলনটাকে ম্যাচের আবহের খুব কাছাকাছি রাখতে চেয়েছি। কারণ, ক্রিকেটারদের "মাসল মেমরি" যেন ম্যাচের বাস্তব পরিস্থিতির মতো থাকে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে, কাল আমরা খেলব—পরিস্থিতিটা এ রকম, খেলার মাঝের সময়গুলো এমন হতে পারে।’

মুশতাক আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মাঝের ওভারগুলোয় কীভাবে দৌড়ে রান নিতে হবে, সেটা আলাদা করে বলা হয়েছে। সিমন্স চাচ্ছিলেন ব্যাটারদের শেখাতে কীভাবে মিডল ওভারে সিঙ্গেল নিতে হয়, কীভাবে ঘুরিয়ে খেলা যায়। এজন্য স্পিনারদের ফিল্ড সেট করতেও বলা হয়েছিল। আজকের অনুশীলনটা তাই অনেকটা ম্যাচসদৃশ ছিল।’

আজকের অনুশীলনটা তাই অনেকটা ম্যাচসদৃশ ছিল। ছবি: দেশ রূপান্তর

ব্যাটসম্যানরা পরে ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করলেও স্পিনারদের পুরো সেশন হয় সেন্টার উইকেটে। স্পিনারদের ‘গুরু’ মুশতাক বলেন, ‘ফিল্ড পজিশনের ক্ষেত্রে আপনাকে খুবই চতুর হতে হবে... কখনো কখনো শুধু ফিল্ডার ঠিক জায়গায় রাখলেই ব্যাটসম্যানকে আউট করা যায়... ৮৫ কিলোমিটারে বল করবেন, নাকি ৯০-এর ওপরে—এসব তথ্য আমরা দিয়েছি, বাকিটা ওদের কাজ।’

এদিনের অনুশীলনে মূল ফোকাস ছিল ফুটওয়ার্ক। কীভাবে সামনের পায়ে বা পেছনের পায়ে ভর দিয়ে খেলে টার্ন সামলে সিঙ্গেল নেওয়া যায়, কীভাবে মিডল ওভারে স্ট্রাইক রোটেট করা যায়—এসব বিষয় মাথায় নিয়ে অনুশীলন করেছেন ব্যাটসম্যানরা।

এই অনুশীলনে আরেকটি বিষয় নজর কাড়ে—তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার সাধারণ ব্যাটের সঙ্গে ছোট ব্লেড আর বড় হ্যান্ডেলের ‘মঙ্গুজ’ ব্যাট দিয়ে অনুশীলন করেছেন। সাধারণত টি-টোয়েন্টিতে বড় হিটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত এই ব্যাট কেন?

অনুশীলনে সিরিজের মাঝপথে দলে ঢোকা নাসুম আহমেদ। ছবি: দেশ রূপান্তর

মুশতাক এর ব্যাখ্যা দেন: ‘ছোট ব্যাট দিয়ে অনুশীলন করলে ব্যাটসম্যান তার গ্র্যাভিটি লেভেল নিচে নামাতে পারে। স্পিনিং উইকেটে তোমার মাথা বলের খুব কাছে থাকতে হবে। যদি ফুটওয়ার্কে আলসেমি করো, স্পিনার সহজে আউট করে ফেলবে। ছোট ব্যাট দিয়ে অনুশীলনের মানে হলো সামনে বা পেছনে খেলো, মাথা যেন সবসময় বলের কাছাকাছি থাকে, আর বলটা দেরিতে খেলেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘যখন ব্যাটাররা এমন ফুটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু করে, তখন ভালো বলেও তারা সিঙ্গেল নেয়। আমি জানি, কেউ যদি আমার ভালো বলেও রান নিচ্ছে, তাহলে আমি ওকে পরের বলেই কিছু আলাদা দিতে বাধ্য হবো। তাই এই অনুশীলন খুব দরকারি।’

সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচের আগে তাই বাংলাদেশ দল ব্যাটিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিতে এবং স্পিনের মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে এক ভিন্নধর্মী ও নিবিড় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত