পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এবং বন্ধ্যত্ব

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৫ এএম

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম একটি হরমোনাল অসুখ, যেখানে প্রতি মাসে ওভুলেশন না হওয়ার কারণে ডিমগুলো ওভারির চারদিকে ছোট ছোট সিস্টের আকারে সজ্জিত থাকে। এই অসুখে প্রতি মাসে মাসিক নিয়মিত হয় না, অনেকের ক্ষেত্রেই বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়। মুখে, শরীরে অবাঞ্ছিত লোম হয়, ব্রণের আধিক্য ও মাথার চুল পড়ে। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম শতকরা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী করা হয়।

কারণ

জিনগত কারণ

হরমোনাল কারণ হলো এন্ড্রোজেন হরমোনের আধিক্য এবং ইনসুলিন হরমোন শরীরে বেশি পরিমাণে থাকলেও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

পরিবেশগত কারণ : অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, হাইগ্লাইসেমিক ইনডেক্স শর্করা গ্রহণ (ভাত, আলু, চিনি, মিষ্টি), ওজনের আধিক্য।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস : শরীরে ঙীরফধহঃ এবং অহঃরড়ীরফধহঃ-এর একটা ব্যালান্স থাকে, এটার যখন তারতম্য হয় তখন ঙীরফধঃরাব স্ট্রেস তৈরি হয়। এই ঙীরফধঃরাব ংঃৎবংং প্রক্রিয়ায় ডিম ফোটা ব্যাহত হয়।

রোগ নির্ণয়

ডায়াগনোসিসের জন্য একটা ঞঠঝ যথেষ্ট যেখানে ওভারিয়ান ভলিউম বেশি পাওয়া যায় এবং ডিমের সংখ্যা প্রতি ওভারিতে ১০-১২টার বেশি থাকে। মাসিকের ২য় বা ৩য় দিনে কিছু হরমোন পরীক্ষা করা হয়, সঙ্গে ইষড়ড়ফ ঝঁমধৎ টাও ঈযবপশ করতে হবে, স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করতে হবে বন্ধ্যত্ব রোগীদের ক্ষেত্রে।

চিকিৎসা

চিকিৎসার প্রথম ধাপ হচ্ছে

লাইফস্টাইল মেডিফিকেশন অর্থাৎ

প্রতিদিন ৩০মিনিট অথবা ৫দিন সপ্তাহে ব্যায়াম করতে হবে, দেহের উচ্চতা অনুযাযী ওজন কমাতে হবে।

ব্যালেন্স ডায়েট : ভাত, আলু, চিনি, মিষ্টি কমিয়ে খেতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড, প্রসেসড ফুড না খাওয়া। সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল বেশি খেতে হবে।

মেটফরমিন অথবা ইনোসিটল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারবেন ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।

ওপরের চিকিৎসার পাশাপাশি

প্রথম লাইন চিকিৎসা ডিম আসার ওষুধ (Letrozole অথবা Clomiphene  দেওয়া হয়)।

দ্বিতীয় লাইন চিকিৎসা ডিম আসার ইনজেকশন দেওয়া হয়, যদি প্রথম লাইন চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। অথবা Laparoscopy করা হয় যদি AMH>10  হয়।

বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ডিম আসার ওষুধ বা ইনজেকশনে কনসিভ হয়ে যায় কারণ এখানে ডিমের সংখ্যা বেশি থাকে। খুব কম সংখ্যক চপড়ং রোগীর ওঠঋ দরকার হয়। চড়পং রোগীর বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় সাফল্যের হার বেশি যদি রোগী ওজন কমাতে পারেন এবং লাইফস্টাইল বদলাতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত