রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা পুরোপুরি নিজের করে নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজ। দিনের শুরুতে পাকিস্তান ছিল ৫ উইকেটে ২৫৯ রানে, বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু মহারাজের ঘূর্ণি জাদুতে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। আগের দিন ২ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনার শুক্রবার সকালে তুলে নেন বাকি পাঁচটি উইকেট, তাও মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে।
এর ফলে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৩৩৩ রানে। ইনিংসের সর্বোচ্চ রান আসে অধিনায়ক শান মাসুদের ব্যাট থেকে (৮৭)। ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক (৫৭) এবং সৌদ শাকিল (৬৬) করেন দুটি অর্ধশতক। তবে দলের কেউই তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। মহারাজ ১০২ রান দিয়ে শিকার করেন ৭ উইকেট— যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম পাঁচ উইকেট শিকার। যদিও তার সেরা বোলিং ফিগার ২০১৮ সালে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (৯/১২৯)।
পাকিস্তানের ইনিংস শেষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা বেশ সাবধানীভাবেই করে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম সেশনেই পাকিস্তানের বোলাররা হালকা চাপে ফেললেও, টনি ডি জর্জি ও ট্রিস্টান স্টাবস মিলে দৃঢ়ভাবে দলকে টেনে তোলেন। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ১১৩ রানের জুটি।
তবে পাকিস্তানের ম্যাচ সচেতনায়তা ঘাটতি ছিল। সাজিদ খানের বলে ডি জর্জির বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন নাকচ করেন আম্পায়ার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি ব্যাটে নয়—সোজা প্যাডে লেগেছিল। সেটি ছিল স্পষ্ট এলবিডব্লিউ। কিন্তু পাকিস্তান দল ক্যাচের আবেদন নিয়েই ব্যস্ত থাকায় রিভিউ নেয়নি, ফলে মাত্র ৫ রানে বেঁচে যান ডি জর্জি, পরে খেলেন ৯৩ বলে ৫৫ রানের ইনিংস।
দিনশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮৫ রান। অপরাজিত আছেন ট্রিস্টান স্টাবস ৬৮ রানে, তার সঙ্গী কাইল ভেরাইনে ১০ রানে ব্যাট করছেন। পাকিস্তানের পক্ষে আসিফ আফ্রিদি নিয়েছেন ২ উইকেট, একটি করে পেয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সাজিদ খান। তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও পিছিয়ে আছে ১৪৮ রানে, কিন্তু হাতে রয়েছে ছয়টি উইকেট। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের মোড় কোন দিকে ঘুরবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।
৩০০ বলের ইনিংসে ১৯৩টি ডট খেলেছে বাংলাদেশ!
ইতিহাসে প্রথমবার পুরো ৫০ ওভার বোলিং করলেন স্পিনাররা