থাইল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের হার

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০২:২০ এএম

১২ বছর আগে নিজ আঙিনায় থাইল্যান্ডের কাছে পেতে হয়েছিল ৯-০ গোলে হারের লজ্জা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেটাই ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ২০১৩ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচের এক যুগ পর ফের দুদল মুখোমুখি হয় শুক্রবার। ব্যাংককের থনবুরি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ভাগ্য ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। পারেনি সাড়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচটা জয়ে রাঙাতে। র‌্যাংকিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ড ম্যাচটা জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে। ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও দুদলের সম্মতিতে লড়াইটা হয়েছে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে। নিয়মকানুনও ছিল বেশ শিথিল। দুদল সর্বোচ্চ ছয়টি পরিবর্তন করার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে চেয়েছেন সবাইকে পরখ করে দেখতে। তবে পরিবর্তনগুলো দলের হার রুখতে পারেনি।

সেরাদের দিয়েই একাদশ সাজিয়েছিলেন বাটলার। গোলকিপার হিসেবে ছিলেন রূপনা চাকমা। রক্ষণে শামসুন্নাহার সিনিয়র, শিউলি আজিম, কোহাতি কিসকু ও আফঈদা খন্দকার। মাঝমাঠের দায়িত্বে ছিলেন মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, মুনকি আক্তার ও ঋতুপর্ণা চাকমা। গোলের মূল দায়িত্ব ছিল তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার সিনিয়রের। তবে বাটলারের সেরারা ম্যাচ শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই গোল হজম করে বসে। অর্থাৎ প্রথম আক্রমণেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। রেফারির বাঁশি বাজার ৫০ সেকেন্ডে গোল করেন ওরাপিন ওয়েনগোয়েন। ম্যাচের ২৩ মিনিটে রূপনার কৃতিত্বে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ফরোয়ার্ড একা পেয়েও রূপনাকে পরাস্ত করতে পারেননি। চার মিনিট পর ফের থাইল্যান্ডকে হতাশ করেন রূপনা। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে গোল পেতে পারত বাংলাদেশ। তবে ৪০ গজ দূর থেকে মনিকা চাকমার নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির পর দুটি পরিবর্তন করেন বাটলার। তহুরা ও মুনকিকে তুলে নামান সাগরিকা ও শাহেদা আকতার রিপাকে। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে ফের বাংলাদেশকে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন রূপনা। তবে দুই মিনিট পর আর থাইদের থামাতে পারেননি তিনি। স্বাগতিকদের লিড দ্বিগুণ করেন বদলি ফরোয়ার্ড সাওয়ালাক পেংনাম। ৫৯ মিনিটে আবারও ত্রাতার ভূমিকা নেন রূপনা। এবারও ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে সফল হন তিনি। ম্যাচের ৭০ মিনিটে আরও চারটা পরিবর্তন করেন বাটলার। শিউলি আযিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমার জায়গায় আসেন হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি রিতা, সিনহা জাহান শিখা ও নবিরণ খাতুন। ম্যাচের ৮১ মিনিটে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন থাই ফরোয়ার্ড পাত্তারানান আউপাচাই। ৮৯ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড বার উঁচিয়ে বাইরে যায়। ভালো প্রচেষ্টা ছিল এই ফরোয়ার্ডের। সেটা লক্ষ্যে না থাকায় এক যুগ পর ফের হারের কষ্ট সঙ্গী হয় বাংলাদেশের।

এমন হারে খেলোয়াড়দের দায় দেখছেন কোচ বাটলার। বিশেষ করে বেশ কয়েকজনের মনোভাব নিয়ে সোজাসুজি প্রশ্ন তুলেছেন কোচ, ‘আমার মতে, খেলায় ইতিবাচক অনেক কিছু ছিল। তবে কয়েকজন মেয়ে ভুল মনোভাব নিয়ে মাঠে এসেছিল এবং আমি সাফ জানিয়ে দিতে চাই কোনো প্রকার ঢিলেমি সহ্য করব না। যারা আমার অধীনে খেলতে চায়, যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চায়, তারা এমন মনোভাব নিয়ে আসতে পারে না যা জাতীয় দলের ফুটবলের উপযুক্ত নয়। আমরা জিতি বা হারি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটা শেখার একটি ধাপ, এবং এটা শ্রদ্ধার ব্যাপার।’

জুলাইয়ে মিয়ানমারে টানা তিন জয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের সঙ্গে এই বাংলাদেশকে মেলাতে না পেরে হতাশ কোচ, ‘এটা জাতীয় দলের খেলার মতো লাগছিল না। বরং মনে হয়েছে উন্নয়নের মধ্যে থাকা কোনো একটা ম্যাচ হচ্ছে। আমাদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে যখন এ রকম ম্যাচ খেলি। আমি এ ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। কখনো কখনো পরাজয়ে জয়ের চেয়ে বেশি শেখা যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত