রাওয়ালপিন্ডির ঘরের মাঠে আবারও ব্যর্থ পাকিস্তানের ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তারা হেরে গেছে ৫৫ রানে। ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৯ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার করবিন বশ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে, ক্যারিয়ারসেরা ৪ উইকেট নিয়ে (৪-১৪) পাকিস্তানের ইনিংস ভেঙে দেন। স্পিনে সহায়তা করেন জর্জ লিন্ডা, নেন ৩ উইকেট ৩১ রানে। শেষ সাত উইকেট হারায় পাকিস্তান মাত্র ৫৮ রানে।
সাহিবজাদা ফারহান ও সাঈম আয়ুব ওপেন করে শুরুটা সতর্কভাবেই করেছিলেন (৩১ রানের জুটি), কিন্তু ১৯ বলে ২৪ করা ফারহানকে ফিরিয়ে দেন লিজাদ উইলিয়ামস। এরপর মাঠে নামেন এক বছর পর টি-টোয়েন্টিতে ফেরা বাবর আজম। কিন্তু মাত্র দুই বল টিকেছেন। বশের বল মারতে গিয়ে কভারে ক্যাচ দেন তিনি।
অধিনায়ক সালমান আলি আগাও ফিরেছেন দুই রানে, বশের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। এক পর্যায়ে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৪৩/৩। এরপর সাঈম আয়ুব (২৮ বলে ৩৭) লিন্ডার বলে লং-অনে ধরা পড়লে শুরু হয় ধস।
উসমান খান (১২) স্টাম্পড, হাসান নওয়াজ (৩) বোল্ড, ফাহিম আশরাফ (১) রিভার্স সুইপে আউট হয়ে ফিরেছেন একে একে। শেষে কিছুটা লড়াই করেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ২০ বলে করেন ৩৬ রান (৪ চার, ২ ছক্কা)। কিন্তু তিনিও উইলিয়ামসের বলে লং-অফে ক্যাচ তুলে দেন।
আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে তোলে ১৯৪ রান। রিজা হেন্ডরিকস খেলেছেন ৩২ বলে ৬০ রানের দারুণ ইনিংস, সঙ্গে জর্জ লিন্ডার ব্যাটে আসে ৩৬। পাকিস্তানের হয়ে নওয়াজ নেন ৩ উইকেট ২৬ রানে, সাঈম নেন ২ উইকেট ৩১ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের শুরুটা ছিল ঝড়ো। কুইন্টন ডি কক ১৩ বলে ২৩ রানের ঝলক দেখিয়ে ফেরেন, এরপর ডেবিউ ম্যাচে টনি দে জর্জি খেলেন ১৬ বলে ৩৩ রানের মারকাটারি ইনিংস। তবে পাকিস্তানের স্পিনাররা মাঝপথে ম্যাচে ফেরে।
শেষদিকে হেন্ডরিকস ও লিন্ডার জুটি দলকে পৌঁছে দেয় ১৯৪-এ। শাহিন আফ্রিদি ও নাসিম শাহ উইকেট পেলেও ছিলেন খরুচে—দুজনেরই খরচ ৩০ রানের ওপরে।
লক্ষ্যটা পাকিস্তানের জন্য নাগালের বাইরে নয় মনে হলেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে সব শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করে জয় তুলে নেয় সহজে।
সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার লাহোরে। পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বাবর আজমের ফর্ম, মাঝের সারির ব্যর্থতা, আর অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল?
×
