দিগন্তজোড়া ঘন সবুজ ধানখেত। মৃদু বাতাসে ধানের সবুজ পাতা আর শীষ যেন ঢেউ খেলছে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে এখন এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য। সবুজ ধানগাছ গুলোতে এখন কেবল শীষ আসা শুরু হয়েছে বা শীষের মধ্যে দুধ-দানা বাঁধছে। প্রকৃতির এমন শান্ত ও মনোরম পরিবেশে সোনালী ফসলের স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
মাঠে কাজ করা কৃষকদের চোখে-মুখে এখন আনন্দের ছাপ। তারা বলছেন, আর কিছুদিন পরেই এই সবুজ ধান হলুদ বর্ণ ধারণ করবে এবং সোনালী ধান তারা ঘরে তুলতে পারবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হালিম (৫৫) জানান, ‘এ বছর যদি বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তবে এবার বাম্পার ফলন পাব। গোলাভরা ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছি।’
আরেকজন কৃষক, মোসাম্মৎ আলেয়া খাতুন (৪৫) বলেন, ‘জমিতে ধানের শীষ দেখে মনটা ভরে যায়। শুধু পরিশ্রমের দামটা যেন ঠিকমতো পাই, সেটাই এখন একমাত্র চাওয়া।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ১৯ হাজার দুইশত ৪০ হেক্টর জমিতে আমন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের জমিতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন, ধানের জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকরা সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। আমরাও নিয়মিত মনিটরিং করেছি। আশা করছি এই বছর ত্রিশালে ধানের ফলন ভালো হবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
