ভিক্ষুক শব্দটি শুনতে রুঢ় শোনালেও এটি একটি বাস্তব সামাজিক সমস্যা। আর ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিবর্তন করতে পারলেই তারা হবে সমাজের সুন্দর মানুষ। অর্থাৎ কোনভাবে এদের যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও একটু সহযোগিতা করতে পারলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার লক্ষে সম্প্রতি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে করে পাল্টে যাবে সমাজের অবহেলিত ভিক্ষুকদের জীবন।
জানা যায়, দেশে দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং ভিক্ষাবৃত্তির মত অমর্যাদাকর পেশা থেকে মানুষকে নিবৃত করার লক্ষ্যে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলো ২০১০ সালে।
২০১০ সাল হতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন এ কার্যক্রম শুরু হলেও কেরানীগঞ্জ উপজেলায় গত ১৪ বছরে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রকল্পটি তেমনভাবে গুরুত্ব দেয়নি পূর্বের কোন কর্মকর্তাই।
তবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান দায়িত্ব নেয়ার পরে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন প্রকল্পটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন এবং এই প্রথম কেরানীগঞ্জ থেকে বেশ কয়েকজন ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে রাস্তায় ভিক্ষা করা অনেক ভিক্ষুক।
আব্দুল্লাহপুর বাজারে রাজা নামের এক ভিক্ষুকের সঙ্গে এই প্রকল্পের বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, মানুষের কাছে হাত পেতে চেয়ে খেতে অনেক লজ্জা তো করেই। কিন্তু আমার কাছে পুঁজি নাই যে কিছু একটা করবো, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমারে কিছু পুঁজি দিয়ে একটা ছোট খাটো টং দোকান দিয়ে দেয়, আমি মানুষের কাছে আর হাত পাতবো না।
ভিক্ষা করে পরিবার চালান হযরতপুরের আয়নাল। আয়নাল জানান, সমাজসেবা থেকে যদি সত্যিই আমাদের সহায়তা করার কথা ভাবা হয়, তাহলে আমি একটা রিক্সা গাড়ি কিনতে চাই। ভিক্ষার টাকায় পোলাপানগুলা বড় হইবো এটা অনেক লজ্জার। আমি কাজ করে খেতে চাই। আমারে যদি তারা সত্যিই একটা রিকশা কিনে দেয়, সত্যিই আমি কাজ কইরা খামু। ভিক্ষার এ জীবন একটা অভিশাপ।
এ বিষয়ে, কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, ভিক্ষুকগণ সমাজের বোঝা হয়ে থাকবেন না, যদি তাদেরকে পূঁজি দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে সঠিকভাবে তদারকি করা হয়। আমরা আমাদের স্বল্প জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি আরো বলেন, ভিক্ষুকমুক্ত সমাজ গড়তে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। যাকাত বা অন্যান্য দানের টাকা বিচ্ছিন্নভাবে দান না করে সমন্বিতভাবে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মৌলভীবাজারে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় সিগারেট ও মোটরসাইকেল জব্দ
সুদানে হত্যাযজ্ঞ বন্ধে জরুরি আহ্বান গুতেরেসের
২৭ বছরের ছবি ফাঁস : বয়স নিয়ে ফের বিতর্কে জয়া