জেন-জি বিক্ষোভের পর গঠিত অন্তবর্তী সরকারের ডাকা বৈঠকে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ও জেন-জি প্রতিনিধিরা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্টি পার্টি অব নেপালও (সিপিএন–ইউএমএল) ছিল।
নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সাধারণ ঐকমত্য গড়ে উঠেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাঠমুন্ডু পোস্ট।
বুধবার অন্তবর্তী সরকার প্রধান সুসিলা কার্কির বাসভবন বলুওয়ারতারে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক মূলত আগামী বছরের ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, বৈঠকে ৮–৯ সেপ্টেম্বরের যুব বিদ্রোহের পরবর্তী পরিস্থিতি, সংবিধান বাতিলের দাবি এবং প্রবাসী নেপালিদের ভোটাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির দল সিপিএন–ইউএমএল ছাড়া অন্যান্য সাতটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা দ্রুত নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে একমত হন। বিলুপ্ত সংসদের সদস্য দলগুলোও নির্বাচনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সিপিএনের (ইউনিফাইড সোশ্যালিস্ট) ভাইস-চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাণ্ডে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন ইউএমএল বাদে সব দল সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তার মতে, ইউএমএল এখনো সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে অনড়।
ইউএমএল নেতারা বলেছেন, জেন-জিদের দাবিগুলো কেবল বিলুপ্ত সংসদ পুনর্বহালের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।
ইউএমএল নেতা মহেশ বার্তৌলা ও ছিতিজ থেবে বলেন, সংসদ ভঙ্গ ছিল অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে ভুল পদক্ষেপ। তারা নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বস্ত নন।
রাজেন্দ্র পাণ্ডের মতে, জেন-জি প্রতিনিধিরা বর্তমান সংবিধান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘জেন-জি নেতারা আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।’
সেপ্টেম্বরের যুব বিদ্রোহ এবং নির্বাচনের ঘোষণার পর রাজনৈতিক দল ও জেন-জির মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তথ্যমন্ত্রী ও সরকারি মুখপাত্র জগদীশ খারেল বলেন, বৈঠকে সব দল নির্বাচনের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
নেপালি কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা নির্বাচনের পক্ষে মত জানালেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মার্চ মাসে পাহাড়ি অঞ্চলে শীতের কারণে ভোট আয়োজনের বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপা বলেন, তাঁর দল নির্বাচনের পক্ষে, তবে এত অল্প সময়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মধেশ-ভিত্তিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও নির্বাচনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। অধিকাংশ জেন-জি প্রতিনিধি আগামী ৫ মার্চ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে থাকলেও, তারা দুর্নীতি দমন, সুশাসন ও সেবাপ্রদান উন্নয়নের উদ্যোগ দেখারও দাবি জানান।
বৈঠকে মাওবাদী কেন্দ্রের নেতা বর্ষমান পুন ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের তদন্তে একটি বিশেষ প্রক্রিয়া গঠনের প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের এখন মূল মনোযোগ হওয়া উচিত নির্বাচনে। তবে যদি সম্পদ তদন্তের একটি কাঠামো গঠিত হয়, আমরা তাতে পূর্ণ সমর্থন জানাব।’
