মাত্র দুই বছর আগের কথা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি বাংলাদেশ। নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ বিশ্বকাপে সেদিন বাংলাদেশ হেরেছিল ১৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। প্রোটিয়াদের ৩৮২ রান তাড়ায় নেমে ১১১ রান করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দল হারলেও তার সেঞ্চুরি উদযাপন ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল।
মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে দলের পরাজয়ের ঘটনা কম নয়। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে মাহমুদউল্লাহ যখন বাঁধভাঙা উল্লাস করছিলেন, তার আগেই দলের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। হচ্ছিল সমালোচনা। সেই সমালোচকদের একহাত নিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢাল হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহর স্বজনরাও। অথচ, গতকাল সেই মুম্বাইয়ের ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও উদযাপন করলেন না জেমিমা রদ্রিগেজ।
অস্ট্রেলিয়ার ৩৩৮ রানের জবাবে ভারতের এই টপ অর্ডার ব্যাটার গতকাল খেলেছেন ১৩৪ বলে ১৪ চারে ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। সেঞ্চুরির পর তিনি উদযাপন করেননি। কারণ তার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়টাই বড় ছিল। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে সেটাই তিনি বলেছেন, ‘ফিফটি বা সেঞ্চুরি নয়, আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম—দুই জায়ান্ট স্ক্রিনে লেখা থাকুক “ইন্ডিয়া জিতেছে”। আজ আমি সেই হাসি নিয়ে ঘুমাতে পারব।’
মাহমুদউল্লাহ এখন আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন না। তাই জেমিমার থেকে তার শিক্ষা নেওয়ার কিছু নেই। তবে তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় বার্তা রেখে গেলেন জেমিমা- ব্যক্তির চেয়ে দলের অর্জনই সবচেয়ে বড়। অথচ, টুর্নামেন্টজুড়েই তাকে কাঁদতে হয়েছিল। সময়টা তার পক্ষে ছিল না, ফর্ম হারিয়ে ফেলেছিলেন। বাদ পড়েছিলেন দল থেকে। আবারও যখন সেমিফাইনালের মঞ্চে সুযোগ পেলেন, তখন দেখিয়ে দিলেন নিজের ক্ষমতা।
মেসিদের জন্য ১২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করছে অ্যাঙ্গোলা!
টুর্নামেন্টজুড়ে কেঁদেছিলেন, অবশেষে সবাইকে কাঁদালেন জেমিমা