মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোরতা বাড়ানো হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব নীতির প্রতি সমর্থন কমছে।
নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, স্কুল প্রশাসকরা এসব নীতির সুফল দেখছেন। তবে শিক্ষার্থীরা এখনো ‘বেল টু বেল’ (পুরো ক্লাস সময় জুড়ে মোবাইল নিষিদ্ধ) নীতিকে সমর্থন করছেন না।
র্যান্ড কর্পোরেশন পরিচালিত এই সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৯৫ শতাংশ স্কুল শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন স্কুলে আনতে দিয়েছে। তবে এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ স্কুলে প্রথম ঘণ্টা থেকে শেষ ছুটির ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৬ শতাংশ প্রধান শিক্ষক বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্কুলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত হয়েছে (৭০ শতাংশ), অনুপযুক্ত ফোন ব্যবহার কমেছে (৬৭ শতাংশ), সাইবার বুলিং হ্রাস পেয়েছে (৫৪ শতাংশ)।
তবে কিছু অসুবিধাও প্রকাশ পেয়েছে। ২১ শতাংশ প্রধান শিক্ষক বলেছেন, অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন কারণ তারা সরাসরি সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। একইভাবে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই কারণে উদ্বেগ বোধ করে।
শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে চিত্রটা ভিন্ন। যারা মোবাইল নিষেধের পক্ষে তাদের ৮৮ শতাংশ বলেছেন, এতে ক্লাসে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং বিভ্রান্তি কমে। বিপরীতে যারা নিষেধের বিপক্ষে তাদের ৮১ শতাংশ মনে করেন অভিভাবকদের জরুরি অবস্থায় সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকা উচিত।
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফলগুলো স্কুল নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। প্রধান শিক্ষকদের মতে, কঠোর নীতি স্কুলের নিরাপত্তা ও মানসিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক । অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের যোগাযোগের উদ্বেগকে উপেক্ষা করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুল প্রশাসকদের এখন এমন নীতি তৈরি করতে হবে যা একদিকে নিরাপত্তা ও মনোযোগ ধরে রাখবে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
