চট্টগ্রামের পাহাড়, সাগন ও সমতল বেষ্টিত বাঁশখালী। এ বাঁশখালীর পূর্বাঞ্চলের চুনতি অভয়ারণ্যের কয়েক হাজার হেক্টর জায়গা জুড়ে অবস্থিত বাঁশখালী ইকোপার্ক। এক সময়ের আলোচিত বামের ছড়া ও ডানের ছড়াতে তৎকালীন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলামর সার্বিক সহযোগিতায় বন বিভাগ ২০০৩ সাল থেকে বাঁশখালী ইকোপার্ক এর আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কের যাত্রা কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতেই বহুমুখী উন্নয়ন, নানা প্রজাতির পশুপাখির সমাগম মিলে সাড়া জাগানো এ পার্ক একনজর দেখার জন্য সারাদেশ থেকে ভিড় জমাতে থাকে। কিন্ত ২০০৮ সালে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের পানি তোড়ে বাঁশখালী ইকোপার্কের বামের ছড়ার বাঁধ ভেঙে ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা ও হাইড্রোইলেক্ট্রনিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তছনছ হয়ে যায়। এ সময় ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা ভেঙে গেলে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পায়।
পাখির কিচিরমিচির শব্দ, পশু পাখির বিচরনে মুখরিত থাকলেও দীর্ঘ সময় আশানুরুপ উন্নয়ন বন্ধ থাকা এবং অধিকাংশ স্থাপনা সংস্কারহীন হয়ে পড়ায় অনেকটা পর্যটক বিমুখ হয়ে পড়ে। জৌলুশহীন বাঁশখালী ইকোপাকের ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে থাকা একমাত্র সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। ১০ ফুট প্রসস্থ করে ৩.৩৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের বিগত জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সে কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবে বৃষ্টির কারণে কাজটি শেষ করতে পারেনি বলে জানান বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, এসড়কে বাকি ১.৫ কিলোমিটার সড়ক সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ। তবে তার আগে একটা ব্রিজ করতে হবে ,সেটার বরাদ্দ এখনও পাওয়া যায়নি, ব্রিজসহ বাকি ১.৫ কিলোমিটার সড়ক সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ শেষ অনাসায়ে যাওয়া যাবে বাঁশখালী ইকোপার্কে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোকিত পর্যটন স্পট হিসাবে বাঁশখালী ইকোর্পাক সারাদেশে পরিচিত লাভ করেছিল। আঁকা-বাঁকা অসংখ্য পাহাড় ও লেকের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বাঁশখালী ইকোপার্কটি পাখির কিচিরমিচির শব্দ, পশু পাখির বিচরনে মুখরিত হওয়া, এলোমেলো অসংখ্য লেক, আঁকাবাকা রাস্তা,দেশের দীর্ঘতমসহ দুইটি ঝুলন্ত ব্রিজ, ৩টি পর্যটন টাওয়ার হতে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা, সব মিলিয়ে পর্যটকদের ভর মন ভরিয়ে দিত। এ ছাড়া এ পার্কের বামের ছড়া ও ডানের ছড়ার পানি দিয়ে প্রতিবছর শীলকুপ, চাম্বল ও পৌরসভার জলদী এলাকায় কয়েকশত একর জুড়ে হয়ে থাকে বোরো চাষ। প্রতিবছর পার্কের প্রবেশ পথ ও গাড়ি পাকিং সরকারিভাবে লিজ দিয়ে বছরে ১৪/১৫ লক্ষ টাকা আয় হতো।
এদিকে স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বনবিভাগের চুনতি অভয়ারণ্যের জলদী রেঞ্জের বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এ পার্ক আরো সরকার আধুনিক ও নিরাপদ করে সরকার আরো বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারতো। কিন্ত অদৃশ্য কারণে পার্কের আশানুরুপ উন্নয়ন হয় না, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারে না অনেক সময়।
এ সড়কে রিকশা চলাচলকারী আলম, আবুল কালাম, জসীমসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সড়কের যে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে, তা যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। স্থানীয়রা বাঁশখালী ইকোপার্কেকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্টর প্রতি আহ্বান জানান।
জলদী অভযারণ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত এ পার্কের ব্যাপারে বাঁশখালী জলদী অভযারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জমান শেখ জানান, প্রকৃতি সমৃদ্ধ বাঁশখালী ইকোপার্ক এলাকা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না এর বিশালতা। এই স্পটটি যথাযথ ভাবে আরো বেশী উন্নয়ন ও পর্যটন উপযোগী করা প্রয়োজন। তাতে করে সরকার আরো বেশী রাজস্ব পেত বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বাঁশখালী ইকোপার্কে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হক বলেন, বাঁশখালী ইকোপার্ক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। বাঁশখালীর এই পর্যটন কেন্দ্রটি কে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বনবিভাগ ইতমধ্যে ইকোপার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শুরু করেছে। ইকোপার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ, উদ্ভিদ, প্রাণী, জীববৈচিত্র্য,জলজ বাস্তুতন্ত্র, দর্শনার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সবকিছু বিবেচনায় রেখে বিশেষজ্ঞ দল মাস্টারপ্ল্যানটি তৈরি করবেন যার আদলে বাঁশখালী ইকোপার্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে।
