উত্তর কোরিয়া তাদের দেশে প্রচারিত হাতেগোণা আন্তুর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার রেডিও সম্প্রচার ছিল উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য বাইরের পৃথিবীর একমাত্র জানালার মতো। এখন সেটিও বন্ধ হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশটির লাখো মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে স্বাধীন তথ্যের একমাত্র উৎস থেকে।
উত্তর কোরিয়ায় সম্প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার রেডিও চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভয়েস অফ আমেরিকা (ভিওএ), রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ভয়েস অফ ফ্রিডম।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ওয়াশিংটন ও সিউলের রাজনৈতিক পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর নতুন প্রশাসন শত শত ভিওএ কর্মীকে ছাঁটাই করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মূল সংস্থা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে,দক্ষিণ কোরিয়া গত আগস্ট মাসে ১৫ বছর পর ‘ভয়েস অফ ফ্রিডম’ সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। একসময় খবর ও কে-পপ গান উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছানোর জন্য দুই দেশের সীমান্তে স্থাপিত বড় লাউডস্পিকারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
সমালোচকরা বলছেন,আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বন্ধের ফলে উত্তর কোরিয়ার ২৬ মিলিয়ন মানুষ এখন কেবল রাষ্ট্রীয় প্রচারণাই শুনতে বাধ্য। কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিম উন-জং বলেন,'এই সম্প্রচারগুলো বন্ধ হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার জনগণ বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আরও অন্ধকারে ঢুকে যাবে'
রেডিও ফ্রি এশিয়ার নির্বাহী সম্পাদক রোসা হুয়াং এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,'নিউজরুম অন্ধকার, মাইক্রোফোন নিস্তব্ধ,সম্প্রচার বন্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটেও সব কিছু থেমে গেছে। উত্তর কোরিয়ার লাখো মানুষ স্বাধীন তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারাবে'
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ায় সরকার বিরোধী সম্প্রচারের পরিমাণ ৮৫ শতাংশ কমে গেছে, টেলিভিশন সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধ। বিদেশি সিগন্যাল ব্লক করা ও ২০২০ সালে আরোপিত বিরুদ্ধচিন্তা ও সংস্কৃতি বিরোধী সেন্সর আইন এখন আরও কঠোর ভাবে প্রয়োগ হচ্ছে।
