জামায়াতের আলোচনার প্রস্তাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৪০ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এমন প্রেক্ষাপটে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করে এ প্রস্তাব দেন।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কারভাবে আপনাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্য।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জামায়াতের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জুলাই সনদের ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলোর আইনানুগ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি, সময়মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করা হয়। এছাড়া, নতুন করে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা সংকট সৃষ্টি করে যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা না আসে, সে কথাও বলেন তারা।

বৈঠক-পরবর্তী সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনার পর যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়েছে, তারা তার অংশীদার হিসেবে সনদে উল্লিখিত সব বিষয় ধারণ করেন। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

অন্যদিকে, জামায়াতের ডা. তাহের তার প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলাম। উপদেষ্টা পরিষদ সেটা গ্রহণ করে দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। সে অনুযায়ী বিএনপি মহাসচিবকে ফোন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছি। তাহেরের দাবি, মির্জা ফখরুল আগ্রহের সঙ্গেই কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শ করে তাকে জানানোর কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২ নভেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এক সপ্তাহের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ইস্যুতে কোনো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে আসতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার নিজেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত