সরকারের ঘোষণা অনুসারে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী মাসের যে কোনো দিন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে সারা দেশেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা বৈঠক করছেন। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সরকারের হাইকমান্ড। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনার পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম উঠে এসেছে। ব্যক্তিগত ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্যের পাশাপাশি পতিত আওয়ামী লীগের ইন্ধন থাকার বিষয়ে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যারা ইন্ধন দিয়েছে তাদের নামও উদঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, আগামী ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সারা দেশে ব্লকেডের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে তথ্য এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। গতকাল ঢাকার তিনটি স্থানে যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আদালতে যাওয়ার সময় পুরান ঢাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতা তারিক সাঈদ মামুনকে কমান্ডো স্টাইলে কয়েকশ লোকের সামনে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে বীরদর্পে চলে গেছে খুনিরা। এই ঘটনায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন গ্রুপ সম্পৃক্ত বলে নিহতের পরিবার দাবি করছে।
পুলিশ বলছে, মামুন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইমন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করলেও অপরাধ জগতে সক্রিয় আছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করলেও তার সাঙ্গপাঙ্গরা অপরাধে সম্পৃক্ত আছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও অপরাধ জগৎ ‘গরম’ করার পাঁয়তারা করছে। তাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে বলে পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে।
২৪ বছর জেল খাটার পর খুন
পুলিশের সূত্র মতে, গতকাল নিহত মামুন এক সময় ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে মামুন জেল থেকে বের হন। আর ৫ আগস্টের পর বের হয়ে মামুনকে খুন করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইমন। কারণ শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও মামুন এক সময় হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তারা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি। ২০২৩ সালে মামুন জেল থেকে বের হয়ে এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় ইমন।
সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুলিশের প্রতিবেদনের তথ্য
আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে পুলিশের একটি ইউনিট সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেওয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিরোধী পক্ষকে চাপে রাখতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি আছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। দেশের বাইরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। তারা অবৈধ চ্যানেলে সহযোগীদের কাছে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছে, যা তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগও তাদের কাজে লাগাচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। পতিত আওয়ামী লীগ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের ধরতে প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড বলতে কিছু বুঝি না। যারা দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে পুলিশের সবকটি ইউনিটকে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।’
কারামুক্ত সন্ত্রাসীদের দিকে সন্দেহের তীর
সূত্র জানায়, আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক কারবারের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ছে তাদের ক্যাডাররা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোর গ্যাংদের। জামিনে মুক্ত হয়ে মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, ফার্মগেট, মতিঝিল, মগবাজার ও পুরান ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মরিয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কয়েকজন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, সুইডেন আসলাম, ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু কারাগার থেকে মুক্তি পান। আর মোল্লা মাসুদ ভারত থেকে দেশে ফিরে আসেন। আমেরিকা থেকে দেশে ফেরেন আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর। এরপরই তারা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। জেলে থাকা অবস্থায় যেসব ক্যাডার তাদের কথামতো চলত এবং টাকা উঠাত তাদের ডেকে নেওয়া হয় সন্ত্রাসীদের ডেরায়। এরপর তাদের কাছে এলাকাভিত্তিক টাকা আদায়ের তালিকা চাওয়া হলে অনেকে বেঁকে বসেন। তারা আগের মতো চাঁদার ভাগ দিতে রাজি হলেও এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ দিতে অনেকে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে তাদেরই পালিত ক্যাডারদের মনোমালিন্য হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আমাদের দুই ধরনের পুলিশিং ব্যবস্থা চলমান আছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। এ ব্যাপারে নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওইসব তথ্য যাচাইয়ের পর দ্রুতই অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।’
গ্রুপ-উপগ্রুপের বিরোধে সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ
শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ ও ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল গ্রুপের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির খবর বারবার সামনে আসে। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নজরদারি রাখা হয় আরও কয়েকজনকে। বিষয়টি টের পেয়ে দেশ ছেড়েছেন পিচ্চি হেলাল। যদিও এর আগেই তাকে দুই দফা হত্যার চেষ্টা চালায় ইমন গ্রুপের সদস্যরা। একইভাবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় (গতকাল আদালত পাড়ায় নিহত) মামুনকে লক্ষ্য করেও গুলি করে ইমন গ্রুপের সদস্যরা। তখন ইমন কারাগারে বন্দি ছিলেন। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হন। এরপর আত্মগোপনে চলে যান মামুন। বাড্ডা এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। গতকাল আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আদালত পাড়ায় তিনি খুন হন।
পুলিশ বলছে, এসব বিরোধের সুযোগে আওয়ামী লীগ তাদের ব্যবহার করছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত করতে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। তাদের দিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি খুনোখুনিতে লিপ্ত থাকবে। বিষয়টি সরকারের হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে। যারা তাদের ব্যবহার করছে তাদের নাম জানতে পেরেছি। ওইসব অপরাধীকে ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। তারপরও আমরা উদ্বিগ্ন।’
সন্ত্রাসীদের নতুন সমীকরণ
সূত্র জানায়, রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে চলছে নতুন সমীকরণ। একদিকে জেল থেকে বের হয়ে অথবা দেশে ফিরেই এলাকায় একক রাজত্ব করতে চাচ্ছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এক সময়ে এসব সন্ত্রাসীর নির্দেশে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছেন তারাও এলাকার কর্র্তৃত্ব ছাড়তে নারাজ। কারণ দখল, চাঁদাবাজি, খুনোখুনি, ভাড়ায় খাটা, আধিপত্যের লড়াইসহ নানা অপকর্মের মাঠ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক তারাই। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে দলছুট ক্যাডারদের কাছে টেনে নিচ্ছেন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ও দেশে ফিরে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা, চাঁদার ভাগ বাড়ানো ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়াসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে তুলে দেওয়ারও প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
নতুন ফোর স্টার গ্রুপের আধিপত্য
এরই মধ্যে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন, ইব্রাহিম, শাহাদাত ও মুক্তার মিলে গড়ে তুলেছেন ভয়ংকর ‘ফোর স্টার’ গ্রুপ। গডফাদাররা বিদেশে থাকলেও দেশে নির্বিঘেœ চলছে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তাদের হয়ে দেশে মাটিতে কাজ করছে অন্তত শতাধিক স্থানীয় সন্ত্রাসী। এর মধ্যে মামুনের ক্যাডাররা সম্প্রতি ৫ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে পল্লবীর সাগুফতা এলাকার একে বিল্ডার্সে হামলা করে। হামলাকারীদের বেশিরভাগই উঠতি বয়সী তরুণ, কিশোর গ্যাং সদস্য। সবার হাতেই ছিল দেশি-বিদেশি অস্ত্র। একইভাবে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভাসানটেকে বেলায়েত হোসেন নামের একজনের বাড়িতে তাণ্ডব চালায় কিলার ইব্রাহিম বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও আগারগাঁও, কাজিপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ-প্রকাশের নাম বলে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাচ্ছে থানা পুলিশ।
দশ মাসে মিরপুরেই ৪০ জন খুন
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুধু মিরপুর জোনে হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ৪০ জন। এর মধ্যে শুধু পল্লবীতেই খুন হয়েছে ১৫ জন। মিরপুর মডেল থানা ৯টি, দারুস সালাম থানা ৭টি, কাফরুলে ৩টি, ভাসানটেকে ২টি, শাহআলী থানায় ২টি, রূপনগর থানায় ২টি হত্যা বলে জানা গেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ফোর স্টার ও বিকাশ-প্রকাশের নাম আসছে তদন্তে। মামুনের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১২, পল্লবী, বাউনিয়া ও সাগুফতা; ইব্রাহিমের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১৩, ১৪, ভাসানটেক ও কালশী; শাহাদাতের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১, ২, ৬ ও ৭; সর্বশেষ মুক্তারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মিরপুর ১০ ও ১১। এসব এলাকার চাঁদাবাজি, মাদক কারবার থেকে শুরু করে হেন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। যদিও এসব নিয়ে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। মামুন গ্রুপের হয়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন তারই বড় ভাই জামিল, ছোট ভাই মশিউর, রফিকুল, শহিদুল, নাটা আলমগীর, কালা মোতালেব, দেলোয়ার হোসেন রুবেল, রাজন, সানি, ভাগ্নে মামুন, সোহেল, কায়েস। কিলার ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করছে যুবরাজ, সাবু, শাকিল, ভাগ্নে সোহেল, কালা ইব্রাহিম, জনি। শাহাদাতের হয়ে টিপু সুমন, ফিটিং শিশির, বিহারি নিলা, প্রচার সাইফুল, পিচ্চি আলামিন, শামিম। মুক্তারের হয়ে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে হাড্ডি সোহাগ, নওশাদ, আশিক, ডাসা শরিফ, এলেক্স জুয়েল, শুটার জাকির, তপু, আমিন, রকি, ছোট রাকিব, শাহাপরান, মিঠু, আতিকসহ আরও অনেকে।
পুলিশের বিশেষ বার্তায় যা বলা হয়েছে
প্রতিবেদন পাওয়া ও দেশে একাধিক ঘটনা ঘটার পর পুলিশ সদর দপ্তর বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল আইজিপিসহ অন্য কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেছেন। রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বৈঠক হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব কটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারাগার কর্র্তৃপক্ষকেও হাজতি ও বন্দি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, ৯০-এর দশকে ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ যে কজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে ছিল, তাদের অন্যতম সুব্রত বাইন। তার সেভেন স্টার নামক সন্ত্রাসী গ্রুপে মোল্লা মাসুদও ছিল। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল যুবলীগ নেতা লিয়াকত ও মুরগি মিলনের নেতৃত্বাধীন ফাইভ স্টার গ্রুপ। গণপূর্ত ও নগর ভবনের টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হতো। সেভেন স্টার গ্রুপের হাতে খুন হন মুরগি মিলন। ১৯৯১ সালে আগারগাঁও এলাকায় জাসদ ছাত্রলীগ নেতা মুরাদকে হত্যার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে সুব্রত বাইনের যাত্রা শুরু। তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ২০০৪ সালের দিকে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যান। পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে ১১ জন বিদেশে আত্মগোপনে থাকলেও তারা সক্রিয় আছে। তাদের নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা আছে। ২০০৩ সালে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে আত্মগোপনে থেকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন। তার সহযোগী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে পালিয়ে আছে। সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তারা মাঠ উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সক্রিয় থাকা সন্ত্রাসীদের সাঙ্গপাঙ্গদের তালিকা করা হয়েছে। যেভাবেই হোক তাদের ধরতেই হবে।
