মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে রাতে উপজেলার বাঁশকান্দি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মতিউর ইসলাম চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। কাজের জন্য গত কয়েকদিন আগে তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে আসেন।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার বিকেলে মাদারীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করেন মো. ফারুক (২৭)। পরে রাত ১০টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।
মো. ফারুক আরো জানায়, যার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক সেই পছন্দের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়নি পরিবার। যার সঙ্গে পরিবার বিয়ে করিয়েছে সেই স্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে ভাই ও বাবার অবৈধ সম্পর্ক। একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। তবে এত কিছু মেনে নিতে পারেনি ফারুক। তাই নিয়ে পরিবারে চলছে দীর্ঘদিনের ঝামেলা। তাই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মো. ফারুক।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মতিউর ও তার ছেলে ফারুক কাজের সন্ধানে মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে এসে রসুন বপনের কাজ নেয়। রবিবার রাতের বেলা বাবা-ছেলে খাবার শেষে একসঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে যায়। রাত ১০টার পর বিছানায় শুয়ে সাবেক পুত্রবধূর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে বাবা মতিউর। এ সময় পাশের ঘরে বসে সিগারেট খাচ্ছিল ফারুক। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বাবাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে ফারুক। মাত্র আড়াই মিনিটে সর্বমোট ১৭টি কোপ দেয়। মতিউরের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার লাশের পাশে বসেই সিগারেট ধরিয়ে টানতে থাকে ফারুক।
তিনি আরো বলেন, শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং মতিউরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় ফারুককে চুপ করে বসে থাকতে দেখে বাড়ির মালিক শিবচর থানায় ফোন দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল, ফারুকের রক্তাক্ত জামা-কাপড়সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মতিউরের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে তার ছেলেকে আসামি করে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার ফারুককে মাদারীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে তার বাবা মতিউরকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ বিচারকের নিকট ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়া শেষে ফারুককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবাকে হত্যার জন্য আগে থেকেই পাশের রুমে একটি কোদাল লুকিয়ে রেখেছিল ফারুক। অপেক্ষায় ছিল কখন তার বাবা ঘুমাতে যাবে সেই সুযোগের।
ভোট হলে জামায়াতের অস্তিত্ব থাকবে না: মির্জা ফখরুল
সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বাড়ল