পার্বতীপুরে প্রাথমিক স্কুলের শ্রেণিকক্ষ আলুর কোল্ড স্টোরেজ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম

পার্বতীপুরে উপজাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন একজন শিক্ষার্থীও পড়ছে না। দুই ছাত্র নিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম, চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলছে। এরমধ্যে ৫ম শ্রেণিতে চারজন, চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন ও তৃতীয় শ্রেণিতে সাত জনের ক্লাস চলছে। এমন চিত্র পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পার্বতীপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে  উপজেলার বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ যেন পরিত্যক্ত গুদাম ঘর। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম। কক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায়, কক্ষের পুরো মেঝেতে আলু বীজ রাখা হয়েছে সেখানে। 

স্থানীয়দের দাবি, উপজাতীয় বাচ্চাদের জন্য ১৯৯১ সালে দুই ভাইয়ের দান করা জমিতে এই বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এই উপজাতীয় স্কুল হলেও একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী নেই। স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে আলুর ক্লোড স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, স্কুলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগদানের পর থেকে স্কুলটির নিজের মতো করে চালান। অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মো. সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষ আলু বীজ আমার নয়, স্কুলের আয়ার। শ্রেণি কক্ষ থেকে আলু অপসারণ করা হবে। আমাদের স্কুলের চুক্তিভিত্তিতে কাজ করে আয়া রেহেনা এই রুমে আলু বীজ রাখেন। তবে আলুবীজ রুম থেকে সরানো হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি দাবি করেন, স্কুলে নিয়মিত ১০৩ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিত দেখা যায় ১৩ জন। তবে, উপজাতীয় স্কুল হলেও এখানে একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। ২০ খ্রিষ্ঠান শিক্ষার্থী রয়েছে। ১ সনাতন শিক্ষার্থী রয়েছে। 

পার্বতীপুর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। 

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক সরকার বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি, বিদ্যালয় কক্ষ ফাকা করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত