ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগের কাছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে হারজগের দপ্তর এ তথ্য জানায়।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন। ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুর জন্য একাধিকবার ক্ষমার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন,'ইসরায়েলি বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাকে আমি সম্পূর্ণভাবে শ্রদ্ধা করি। তবে আমি বিশ্বাস করি, বিবির (নেতানিয়াহু) বিরুদ্ধে এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায্য। তিনি বহু বছর ধরে আমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন, বিশেষ করে ইরানের মতো ইসরায়েলের কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে'
ইসরায়েলে প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও তিনি ক্ষমা প্রদানের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখেন। তবে দেশটির আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অনুরোধ শুধুমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তি, তার আইনজীবী দল বা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা যায়। এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহু বা তার ঘনিষ্ঠ কেউ এমন কোনো আবেদন করেননি।
এক বিবৃতিতে হারজগের দপ্তর জানায়, ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে এবং ইসরায়েলের প্রতি তার অটল সমর্থন, জিম্মিদের ফেরাতে ভূমিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও গাজাকে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় তার অবদান কে উচ্চভাবে মূল্যায়ন করেন।
তবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, ‘যে কেউ ক্ষমা চাইতে চাইলে তাকে আইনসম্মত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে আবেদন জমা দিতে হবে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চিঠি ও শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক সফর গাজা নীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক এখনো দৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ।
