সৈন্যসংখ্যা বাড়াতে জার্মান সরকারের নতুন সামরিক নীতি

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৮ এএম

জার্মানির সরকার নতুন সামরিক সেবার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে যার মাধ্যমে দ্রুত সেনাবাহিনী শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে এবং ২০২৭ সাল থেকে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। নারীরা স্বেচ্ছায় একই ফর্ম জমা দিতে পারবেন। 

বার্লিনের লক্ষ্য—বর্তমান ১ লাখ ৮২ হাজার সৈন্যসংখ্যা বাড়িয়ে আগামী এক দশকে ২ লাখ ৬০ হাজার পর্যন্ত নেওয়া, সঙ্গে আরও প্রায় ২ লাখ রিজার্ভ সদস্য থাকবে। স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে লক্ষ্য পূরণ না হলে সীমিত বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার সতর্কবার্তার পর। জার্মানির সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাইনমেটালের প্রধান আরমিন পাপারগার বলছেন, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত এবং তা পাঁচ বছরের মধ্যেই সম্ভব।

তবে জার্মান তরুণদের মধ্যে এর বিরোধিতা বাড়ছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৬৩ শতাংশ মানুষ বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিপক্ষে। সমালোচকদের অভিযোগ—এতে তরুণদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে; অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস আশ্বস্ত করে বলেছেন,'ভয়ের কোনো কারণ নেই,কারণ এই পরিকল্পনা দেশের নিরাপত্তাকেই আরও শক্তিশালী করবে'। ২০১১ সালে জার্মানি বাধ্যতামূলক সেনাসেবা বাতিল করেছিল, তবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ন্যাটোর চাপ দেশটিকে আবারও সামরিক বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত