১৪৭ বছরের ইতিহাসে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি মাত্র ১১ জনের

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৭ এএম

টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৭ বছরের ইতিহাসে অন্তত একশ টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৮৪ জন ক্রিকেটার। সর্বশেষ সংযোজন মুশফিকুর রহিম। সেই ৮৪ ক্রিকেটারের মাঝে মাত্র ১১ জন শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন। আজ মুশফিককে দিয়ে পূর্ণ হলো সেই একাদশ। নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বাংলাদেশের ‘মি. ডিপেন্ডেবল’।

১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ৩১ বছর পর ১৯০৮ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া–ইংল্যান্ড ম্যাচ ছিল ১০০তম টেস্ট। পরের বছর প্রথম দল হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলে ইংল্যান্ড। তবে প্রথম কোনো খেলোয়াড়কে ১০০তম ম্যাচ খেলতে দেখতে টেস্ট ক্রিকেটকে অপেক্ষা করতে হয় ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত।

ওই বছর ইতিহাসের ৬৩৯তম টেস্টে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল কলিন কাউড্রে। বার্মিংহামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৪ রান করে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের আগে আটটি দলের খেলোয়াড়েরা ১০০ টেস্ট খেলেছেন। সবচেয়ে বেশি ১৭ জন ইংল্যান্ডের। ১০০ টেস্টের ক্লাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ জন অস্ট্রেলিয়ার এবং ১৪ সদস্য নিয়ে তিনে ভারত।

কলিন ক্রাউডের ২১ বছর পর ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ শততম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে লাহোরে খেলেন ১৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্টলি গ্রিনিজ, ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট ও পাকিস্তানের ইনজামাম-উল-হক যোগ দেন এই অভিজাত তালিকায়। অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং অবশ্য একটা জায়গায় অনন্য। ২০০৬ সালে সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের শততম ম্যাচে তিনি দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। ইনিংস দুটি ছিল ১২০ ও অপরাজিত ১৪৩ রানের।

 ২০১০-এর পর এই তালিকায় যুক্ত হন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ (১৩১) ও হাশিম আমলা (১৩৪)। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জো রুট খেলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। ২১৮ রানের ইনিংসটাই শততম টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সর্বশেষ ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। ২০২২ সালের বক্সিং ডে টেস্টে সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার ইনিংসটি ছিল ২০০ রানের। মুশফিককে দিয়ে এবার পূর্ণ হলো একাদশ।

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। আজ বৃহস্পতিবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে প্রথম ওভারটি মেডেন দেন মুশফিক। পরের ওভারে আর দেরি করেননি। ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিতে মুশফিক খেলেন ১৯৫ বল, হাঁকিয়েছেন মাত্র ৫টি চার! এর মাধ্যমে মুমিনুল হকের সঙ্গে যৌথভাবে দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানও হয়ে গেলেন মুশফিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত