সরকারের আমন ধান কেনা শুরু

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

বোরো ও আমন দুই মৌসুমেই ধান, চাল কেনে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আমন ধানের পাশাপাশি সেদ্ধ ও আতপ চাল কিনবে সরকার। শুরু হয়েছে এই ক্রয় কার্যক্রমের। গতকাল বৃহস্পতিবার খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সচিবালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, এ বছর ধান কেনা হবে প্রতি কেজি ৩৪ টাকা করে, সেদ্ধ চাল ৫০ টাকা কেজি এবং আতপ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে বেশ কিছু মিল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। এই আমন মৌসুমে ৫০ হাজার টন ধান, ছয় লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চালসহ সাত লাখ টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার।

খাদ্য উপদেষ্টা এ সময় জানান, আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলো, যা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তিনি বলেন, আমরা যখন চলে যাব তখন নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ খাদ্য মজুদ থাকার কথা, তার চেয়ে বেশি থাকবে। আগামী বছরের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে খাদ্য অধিদপ্তরের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে। এজন্য তারা তখন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মধ্য ফেব্রুয়ারির আগেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ঢিলেমি গ্রহণযোগ্য হবে না।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সবটা সংগ্রহ করে ফেলার জন্য আমরা চেষ্টা করব। বর্তমান সরকার কিন্তু পরবর্তী সরকারের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কাজগুলোকে এগিয়ে রেখে যাবে। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমরা আশা করছি, যে টার্গেট দেওয়া হয়েছে সেটা আমরা পূরণ করতে পারব। লক্ষ্যমাত্রাটাও খুব বেশি নয়। তবে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, লক্ষ্যমাত্রার যত বেশি করা যাবে তত ভালো। আমরা যত বেশি সংগ্রহ করতে পারব তত বেশি বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পারব। তিনি বলেন, পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে বিতরণের জন্য আমরা সব সময় একটা মজুদ গড়ে তুলি। সেই মজুদটা যাতে সন্তোষজনক ও নিরাপদ পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে আমরা সবসময় সক্রিয় ও সচেতন থাকি। এজন্য আমাদের কিছু পরিমাণ আমদানি করতে হয়। এ বছর বোরোতে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহ করেছি।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমাদের পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখ বৃদ্ধি করে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আগে ছিল পাঁচ মাস, এ বছর এটা ছয় মাস করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এগুলোর মাধ্যমে চালের দাম বাজারে দীর্ঘদিন পর্যন্ত স্থিতিশীল আছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সরকারের কাছে এই মুহূর্তে ১২ লাখ ৯৩ হাজার টনের বেশি চাল ও গমের মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৬ টন। এ ছাড়া চাল ও গমের ফ্লোটিং মজুদসহ (যেগুলো আমদানি হয়ে আসছে) মোট মজুদ রয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৩০ টন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত