সুনিয়ন্ত্রিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট গঠনের মাধ্যমে দেশে নতুন বিনিয়োগের যাত্রা শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট জনেরা। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে দেশে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা হওয়া গর্বের বিষয়। বন্ড, কমোডিটিসহ নতুন প্রোডাক্ট যত দ্রুত চালু হবে তত দ্রুত অর্থনীতি সুগঠিত হবে বলে মনে করেন তারা।
গত ১৯ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘ডিসকাশন অন লঞ্চিং কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এমন মতামত উঠে আসে। সিএসইর আয়োজনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সভায় দেশের প্রথম সারির ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চেয়ারম্যানরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সিএসইর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট, এমকেএম মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, ড. মাহমুদ হাসান, এম জুলফিকার হোসেন, মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার। এ সময় সিএসইর সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধারণা এবং পুঁজিবাজারের জন্য নতুন অ্যাসেট ক্লাস। বাংলাদেশের কমোডিটি ইকোসিস্টেমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে উন্নত বাজারব্যবস্থা গঠন সহজতর হবে। ফলে সুনিয়ন্ত্রিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট গঠনের মাধ্যমে প্রাইস ডিসকভারি ও হেজিং সুবিধার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে নতুন বিনিয়োগ, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সিএসইর দেশে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা গর্বের বিষয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার তার অভীষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া পরিচালনা করে। অথচ পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্র হলেও এতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। অর্থনৈতিক গতিশীলতার জন্য মার্কেটে প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন আনতে হবে। সেজন্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমাজিং মার্কেটে যাওয়ার পথটা সুগম করতে হবে। বন্ড, কমোডিটিসহ নতুন প্রোডাক্ট যত দ্রুত চালু হবে তত দ্রুত অর্থনীতি সুগঠিত হবে। আপনারা যারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এসেছেন আপনাদেরকেই ভূমিকা নিতে হবে, সিএসইর এই নতুন মার্কেট স্থাপনে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে, এখানে যে ইনভেস্ট করবেন সেই ইনভেস্টমেন্ট হবে আপনার ব্যালান্স শিটের একটি নিউ উইন্ডো। দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশি ভাইয়েরা এই দেশে বিনিয়োগ করতে চায়, নতুন যেকোনো ভালো উদ্যোগে তারা আসতে আগ্রহী। আমাদের সেজন্য কাজ করতে হবে এবং নতুন ইনভেস্টমেন্টের জন্য উদ্যোগী হতে হবে।
