মাদারীপুরে মামলার পরে আদালতের রায় পেয়েও নিজ জমিতে দখলে যেতে পারছেন না কাঠমিস্ত্রির পরিবার। বিবাদী পক্ষ ক্ষমতাধর হওয়ায় চরম আতঙ্কে ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী মকবুল ফকির।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি মৌজায় জমি ক্রয় করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন মোজাফফর ফকিরের ছেলে মকবুল ফকির। সেই জমিতে জোর পূর্বক একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন ওই এলাকার আমির হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম। এ সময় বাধা দিলে হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কাঠমিস্ত্রি মকবুল। শেষমেশ ২০০৪ সালের মাদারীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন মকবুল। মামলাটি ২০২৩ সালের ১০ মে বাদী মকবুল ফকিরের পক্ষে রায় দেন আদালত। বিবাদী পক্ষ জেলা জজ আদালত ও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে যান। সেখান থেকেও মকবুলের পক্ষে রায় বহাল থাকে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই মকবুলকে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না নুরজাহান। এতে চরম হতাশাগ্রস্ত কাঠমিস্ত্রির পরিবার। এলাকার লোকজনকে বললেও কোনও কর্ণপাত করছেন না অভিযুক্ত। অপরদিকে নুরজাহান বেগমের দাবি, ক্রয় সূত্রে জমির মালিকানা থাকায় ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন তিনি।
জানা যায়, কাঠমিস্ত্রি মকবুল ফকিরের ৭ মেয়ের বিয়ে হওয়ায় শ্বশুরবাড়ি থাকেন তারা। আর একমাত্র ছেলে ইতালি আছেন ১০ বছর ধরে। এই সুযোগে বিবাদী পক্ষ মকবুলকে একা পেয়ে তার জমিতে যেতে দিচ্ছেন না। নিজ জমি দখলে যেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন মকবুল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরজাহান বেগম বলেন, আমি ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখলে আছি। মকবুল যে জমি দাবি করে এটা আমাদের দাগ বা খতিয়ানের অংশ নয়। আমি ল্যান্ড সার্ভে একটি মামলা করেছি। সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এছাড়া ভূমি রেকর্ডের সময় ভুলবশত অন্যনাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পরে মকবুল মামলা করেছে, সেই মামরায় মামলায় হেরেছি।
নুরজাহানের আইনজীবীর সহকারী তুষার বলেন, নুরজাহান বেগম একটি ল্যান্ড সার্ভে মামলা করেছেন। সেটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পূর্বে মামলার বিষয় নুরজাহান বেগমই ভাল বলতে পারবেন।
এ দিকে মকবুল ফকিরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ সরকার বলেন, মকবুল ফকির মামলা করে রায় পেয়েছেন। সেই মামলায় ডিক্রিও হয়েছে। বিবাদী আদালতের রায় অমান্য করায় মকবুল ফকির নতুন একটি জারি মোকদ্দমা করেছেন। এই জারি মোকদ্দমার মাধ্যমেই পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে আদালতের দ্বারস্থ হবে মকবুল ফকির। অর্থাৎ আমার মক্কেলের ন্যায্য অধিকার ফেরত পাওয়ার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল নোমান বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্তের জন্য আদালত থেকে কোন নির্দেশনা পাওয়া গেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। যেহেতু আদালতে জারি মোকদ্দমা চলমান, এই মোকদ্দমার সিদ্ধান্ত দিবেন বিজ্ঞ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কোন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আদেশ হলে তা পালন করা হবে।
