দেশে কোন কোন জেলা ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকিতে

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৪ এএম

বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকির ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—জোন–১, জোন–২ এবং জোন–৩। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানচিত্র অনুযায়ী জোন–১ এলাকায় পড়ে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের কিছু জেলা, যেগুলোকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপ্রবণ ধরা হয়। 

সাধারণত ফল্ট লাইন বা টেকটনিক প্লেটের সীমানায় থাকা অঞ্চলেই বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা থাকে।

এ তালিকায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মোট ৯টি জেলা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর কিছু অংশ, সম্পূর্ণ কিশোরগঞ্জ জেলা, কুমিল্লা বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নির্দিষ্ট অঞ্চলকে উচ্চঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে। 

বিপরীতে খুলনা, যশোর, বরিশাল এবং পটুয়াখালীকে জোন–৩ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার মানে এসব এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

১৯৭৬ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার বড় মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশে অনুভূত হয়েছে। অধিকাংশ কম্পনের উৎস ছিল সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের আশপাশের অঞ্চল—যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী কম্পনের ইঙ্গিত দেয়। 

বিশেষ করে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের সীমান্তঘেঁষা সিলেট-ময়মনসিংহ অঞ্চলকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চারপাশে পাঁচটি প্রধান ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল রয়েছে। মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত প্লেট বাউন্ডারি–১, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি–২ এবং সিলেট হয়ে ভারতের দিকে যাওয়া প্লেট বাউন্ডারি–৩—এগুলোই বড় কম্পনের সম্ভাব্য উৎস। এছাড়া ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্টও ঝুঁকির কারণ।

রাজউকের তথ্য বলছে, ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ভবনের মধ্যে ১৫ লাখ দুইতলা বা তার নিচের। উঁচু ভবনের তুলনায় এগুলোর ঝুঁকি কম। তবে শহরে থাকা ৪ থেকে ৩০ তলা পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ভবন উচ্চঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে এসব ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সংস্কার ও শক্তিশালীকরণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত