ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘নবান্ন উৎসব’ উপলক্ষে বামপন্থীদের সংগঠন জয়ধ্বনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবিরাম গানের উচ্চ শব্দের কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন রোকেয়া হল ও শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা গান-বাজনার তীব্র শব্দ তাদের হল কক্ষে থাকা দায় হয়ে পড়েন।
দুই হলের বহু শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানানোর পাশাপাশি রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ৫০–৬০ জন শিক্ষার্থী টিএসসির দিকে গিয়ে আয়োজকদের কাছে শব্দ কমানোর অনুরোধ জানান।
অভিযোগ করা হয়—তখন আয়োজকদের একজন উল্টো শিক্ষার্থীদের ‘শিবির’ ট্যাগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কয়েকদিন ধরে টিএসসি এলাকায় নিয়মিত উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান হওয়ায় হলে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী নাসরীন আক্তার বলেন, “টানা তিন দিন ধরে এমনভাবে সাউন্ড বাজানো হচ্ছে যে রুমে থাকা যায় না। মাথাব্যথা হয়, পড়াশোনা করা যায় না। ভেবেছিলাম আগের ঘটনার পর এই পরিবেশ বদলাবে, কিন্তু বাস্তবতা একই রয়ে গেছে।”
শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থী নিয়ন মণির অভিযোগ, “সহনীয় মাত্রায় শব্দ রাখার অনুরোধ করলে আলোচনার সময় আয়োজকদের একজন—যিনি নিজেও রোকেয়া হলের ছাত্রীম আমাদের ‘ফাউল শিবির’ বলে অপমান করেন।
এমনকি আমার বান্ধবীর হাতও চেপে ধরেন। প্রক্টর স্যার জানিয়েছেন, আগের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর হবে।
আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া হোসেন ঐশি বলেন, মানুষ এখনও ভূমিকম্পের আতঙ্কে আছে, আর তারা রাত ১০টার পরও উচ্চস্বরে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। বন্ধ করতে বললে উল্টো আমাদেরই শিবির বলা হচ্ছে, এটা চরম দুঃখজনক।
শামসুন নাহার হল সংসদের জিএস সামিয়া মাসুদ মম বলেন, শব্দ কমানোর অনুরোধ করতেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে অযথা রাজনৈতিক ট্যাগিং করা হয়েছে। আমরা সমঝোতা চাইছিলাম, কিন্তু তারা অপমানজনক আচরণ করেছে।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যার পর টিএসসিতে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবুও নির্দেশনা মানা হচ্ছে না, যার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস একটি বিজ্ঞপ্তিতে হলসংলগ্ন এলাকায় স্পিকার, মাইক বা যানবাহনের হর্নের উচ্চ শব্দ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
