গুমের দুই মামলা

সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি ডিসেম্বরে

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩২ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জোরপূর্বক অপহরণ ও গুম করে নির্যাতনের অভিযোগের দুই মামলায় অভিযোগ গঠন প্রশ্নে শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে নির্যাতনের মামলায় আগামী ৩ ডিসেম্বর এবং সেনাবাহিনীর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন (জেআইসি) সেলে নির্যাতনের মামলায় ৭ ডিসেম্বর শুনানি হবে। আজ রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুই মামলায় কারাগারে থাকা ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানির জন্য এদিন ধার্য করে। সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ জেল প্রিজন ভ্যান’লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের একটি প্রিজন ভ্যানে সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আনা হয়। গুম ও নির্যাতনের একটি মামলায় যে ১০ জনকে হাজির করা হয় তারা হলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, এছাড়া আরেকটি মামলায় মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকীকে হাজির করা হয়। তাদের হাজিরাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকায় সেনা সদস্য, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গুমের দুটি মামলা ও গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার একটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলায় গত ২২ অক্টোবর ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে পরবর্তী তারিখ ধার্য করে।

গত ৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক লোকদের গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবরের মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ১৪ জন বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। একজন কর্মকর্তা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) আছেন। এরপর ১৩ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত