জকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি ভঙ্গের প্রতিযোগিতা 

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫২ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রতিদিনই বাড়ছে।

ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’প্যানেলের ভিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ও আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠছে। ভূমিকম্পে আতঙ্কের কারণে সাতদিন জবি ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করে দেন ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিব।

তাছাড়া সোমবার (২৪ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিভাগীয় শহরে বাস ছাড়ার আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবারও বিতরণ করছেন একেএম রাকিবসহ ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’প্যানেল।যা স্পষ্ট আচরণ বিধি লঙ্ঘন।  

জকসু আচরণ বিধিমালার নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত বিধি ১১ (ঙ) তে উল্লেখ আছে, ভোটারগণকে কোনোরকম পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন বা কোনোরূপ উপঢৌকন প্রদান করতে পারবেন না।

ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’প্যানেলের ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিব বলেন, "আমরা একধরনের অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই সংকটে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে যে যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসছেন এটাই আমাদের সম্মিলিত শক্তি।  

আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেবে।" 

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান। তিনি বলেন, "অভিযোগ গুলো শুনেছি, ডকুমেন্টস ও পেয়েছি। আমাদের আচরণ বিধি লঙ্ঘন হলে কিভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে সে বিষয়েও আইন আছে। চারই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন হয়েছে। কেন বিশ্ববিদ্যালয়ই এই অভিযোগের বাইরে ছিলো না। সেগুলোতে তারা কিভাবে হ্যান্ডেল করেছে আমরা তা খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছি- অনেক সংগঠন ই প্রোগ্রাম করতে চেয়েছিলো, সকলেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে বাস দিতে চেয়েছিলো আমি নিষেধ করেছি।

তিনি আরও বলেন, "আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিবো এই অভিযোগ গুলোর বিরুদ্ধে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায়। আগে যা তা করেছে। এখন ইলেকশন নমিনেশন পেপার সাবমিট হয়ে গেছে, প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এখন এই করা ঠিক হবে না, এটা স্পষ্টতই আচরণ বিধির লঙ্ঘন। তার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিবো।"

তাছাড়া এর আগে, নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অনুদান দিয়েছেন ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক প্রার্থী তাকরিম আহমেদ। রবিবার সন্ধায় (২৩ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এক কনসার্টে এই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খাদিজাতুল কুবরা কনসার্টের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি কনসার্টে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকরিম আহমেদ ছাত্রদলের পক্ষ হয়ে ৩০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন। 

ক্যান্সার আক্রান্ত ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মীর নূর নবীর চিকিৎসার জন্য এই চ্যারিটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কনসার্টের অনুমতিপত্রে নির্বাচন কমিশন শর্ত দেয়, ‘কনসার্টের মঞ্চে কোন স্বতন্ত্র/প্যানেল এর প্রার্থী উপস্থিত থাকতে পারবে না।’ কনসার্ট মঞ্চে উঠে জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ঘোষণা দেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি ৫০ হাজার টাকা ফান্ড রেইজ করেছি। আপনারা সবাই আমাকে দোয়ায় রাখবেন, যাকে ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থাকতে পারি।’ মঞ্চে উঠে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকরিম আহমেদ ঘোষণা দেন, ‘আমি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা দিচ্ছি। এই টাকাটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ জবি ছাত্রদলের যে কমিটি, তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে মনোনয়ন জমা দেয়ার পর ছাত্রীহলের বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে স্যানিটারি প্যাড, মগ বিতরণসহ নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করার অভিযোগ রয়েছে খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে।

জকসু আচরণ বিধিমালার নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত বিধি ৫(গ) তে উল্লেখ আছে, ‘মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরুর আগের দিন থেকে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

এছাড়া আচরণবিধিমালার নির্বাচনী প্রার্থীর খরচ সংক্রান্ত বিধি ১৭ (ক)তে উল্লেখ আছে, ‘একজন প্রার্থী হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা এবং কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫,০০০/ (পনেরো হাজার) টাকা ব্যয় করতে পারবেন। বিধি ১৭(খ)তে বলা আছে, ‘নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত