ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, (বৃহস্পতিবার) মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়র জাবরাখালা পাগলীর মেলামঞ্চে গান পরিবেশনকালে পালাগানের একটি নির্দিষ্ট কিছু অংশ কেটে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়িয়ে দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিভ্রান্তিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এই ঘটনায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে ‘নিরাপত্তার কথা বলে’ পুলিশ নিয়ে যায় এবং পরবর্তীকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, ধর্ম অবমাননার নামে এ ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভবে দেশের সংস্কৃতির চর্চাকে ধ্বংস করার যে প্রবণতা দেখা যায় তা অত্যন্ত্য লজ্জাজনক ও ক্ষতিকর। বাঙ্গালী সাংস্কৃতিকে ধ্বংস করার এক ধরণের অপপ্রচেষ্টা ইতিমধ্যে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পারর একটি প্রবণতা বেশ কিছুদিন থেকেই লক্ষণীয়।
একই সাথে দেশের দীর্ঘদিনের মানবতাবাদী, সহনশীল ও সমন্বিত সাংস্কৃতিক ধারার অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ অংশ বাউল সংস্কৃতির একজন শিল্পীকে এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় গুরুতর হুমকি স্বরুপ।
বাউল সম্প্রদায়ের চিন্তা, দর্শন ও গান এই ভূখণ্ডের সাম্য, মানবিকতা এবং মুক্তচিন্তার মূল্যবোধের সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে ধারণ করে এসেছে। এ ধরনের শিল্পীদের ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ দেশের সাংবিধানিক অধিকার বিশেষত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চা এবং মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং একজন শিল্পীকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভয়, আতঙ্ক ও দমনমুলক পরিবেশ সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন, কেন বার বার ধর্মঅববামননার অভিযোগে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, কারা এর মদদ দাতা সেটি তদন্তের পাশাপাশি এই ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের সনাক্তকরনের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
একই সাথে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ দেশের সকল শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
