থুথু ফেলার জেরে বন্দীর পিটুনিতে আরেক বন্দীর মৃত্যু

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম

জামালপুর জেলা কারাগারে থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় এক বন্দীর পিটুনিতে আহত হযরত আলী ওরফে পাগলা হযরত (২৫) নামে এক বন্দীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে জেলা কারাগারের ভেতরে থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

নিহত পাগলা হযরত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চেংটিমারি গ্রামের মো.ইমান হোসেনের ছেলে। তিনি বকশীগঞ্জ থানার মামলা নং ১৪, জিআর মামলা নং ২৪২ (২)-২৫ এর আসামি ছিলেন।

অপর বন্দী মো. রহিদুর মিয়া (৪০) বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর বালুরগাঁও গ্রামের মৃত ছামিউল হকের ছেলে।

জামালপুর কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে কারাগারের ভেতরে কাশি ও থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে পাগলা হযরতের সাথে রাহিদ মিয়ার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় একটি হত্যা মামলায় জেলা কারাগারে বন্দী রহিদ মিয়া হজরতকে দরজার কাঠ দিয়ে একাধিক আঘাত করে। পরে দায়িত্ব কারারক্ষী ও অন্যান্য হাজতিরা আহত মো.পাগলা হযরতকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত পাগলা হযরতের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ পাঠিয়ে দেন। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান তিনি।

জেলা কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. গোলাম দস্তগীর সাংবাদিকদের বলেন, একটি মাদকের মামলায় হাজতি হজরত আলী জেলা কারাগারে ওয়ার্ডে ছিলেন। বৃহস্পতিবার পাশের বিছানার হাজতি রহিদ মিয়া টয়লেটের দরজার কাঠ দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে হজরত আলীকে রক্তাক্ত জখম করেন। হযরত আলী অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

কারা কর্মকর্তা দস্তগীর বলেন, এ ব্যাপারে রহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

জেলা কারাগারের জেলার লিপি রানী সাহা বলেন, পাগলা হযরতের মরদেহ এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অপর হাজতি রহিদুর মিয়া কারাগারেই রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত